এআইয়ের মাধ্যমে হুইপ বকুলের কণ্ঠ-পরিচয় নকল করে প্রতারণা

সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে খুলনার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা সদর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন ব্যবসায়ী জি এম আজিজুর রহমান। মামলায় এজাজ আহমেদ রাজা (৪৬) ও শেখ মাহাবুবুর রহমান মামুন (৪৯) নামের দুজনের পাশাপাশি আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। খুলনা সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাদীর বড় ভাই জি এম মফিজুর রহমান টিকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে আরিফ নামের এক ব্যক্তির যোগাযোগ হয়। আরিফ তাকে জানান, হুইপ বকুল তার সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে +১ (৯২৯) ২২৩-৩৪২৭ নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হয়। ওই নম্বরের ব্যক্তি নিজেকে বকুল সাহেব পরিচয় দিয়ে জি এম মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই রাতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরোনো যন্ত্রাংশ কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে পেমেন্ট ক্লিয়ার করার বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষ সম্মতি দেয়। তখন তাদের জানানো হয়, শেখ মাহাবুবুর রহমান মামুন নামের একজন পরদিন সকালে তাদের সঙ্গে দেখা করবেন।
পরে ২৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে খুলনা সদর থানাধীন ২৫, স্যার ইকবাল রোডের আলফি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে শেখ মাহাবুবুর রহমান মামুনের যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যান এজাজ আহমেদ রাজা ও আরও একজন। এ সময় প্লাটিনাম জুট মিলের পুরোনো যন্ত্রাংশ কেনার পেমেন্ট বাবদ তাদের হাতে নগদ ২ কোটি টাকা দেওয়া হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এরপর একই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আবার যোগাযোগ করে হার্ডমিল জুট মিল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। মিলটি পরিদর্শনের কথা জানালে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবুর নম্বর দেওয়া হয়। ৩০ জুলাই তার মাধ্যমে প্লাটিনাম জুট মিল পরিদর্শন করেন আজিজুর রহমান। পরে মিলের পুরোনো যন্ত্রাংশ পছন্দ হওয়ায় গত ২ আগস্ট এজাজ আহমেদ রাজা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আরও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এভাবে মোট ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও কথিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাদীপক্ষ হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন জি এম আজিজুর রহমান। তখন বকুল তাকে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করে বাদী জানতে পারেন, প্রতারকেরা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে এবং অন্যের পরিচয় ধারণ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা করেছে।
খুলনা সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’




