নাটোরের দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ীর

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ী। ছবি: আগামীর সময়
ব্যবসার কাজে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার ভোরে দুর্ঘটনার খবর জাজিরায় পৌঁছালে নিহতদের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত পাঁচজন হলেন জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেখান থেকে কৃষিপণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
নিহত জুয়েল মাদবর ভুসামাল ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকির ভুসামালের ব্যবসা করতেন। শাহিন বেপারী হলুদ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদারও বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন।
একই উপজেলার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হওয়ায় পাঁচজনের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। ব্যবসার প্রয়োজনে একসঙ্গে রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন তারা। কিন্তু পণ্য কেনার সেই যাত্রাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার জানিয়েছেন, ব্যবসার সুবাদে নিহত পাঁচজনের সঙ্গেই তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন তারা। তবে নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




