ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ ছয় মাসের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে আজ শনিবার সকাল ৭টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খোলা হলো কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১০টি দানবাক্স ও তিনটি ট্রাঙ্ক।
জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বাক্সগুলো খোলা হয়। সেখান থেকে ৪৩ বস্তা ভর্তি টাকা বের করে গণনার জন্য মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। দিনব্যাপী গণনা শেষে সন্ধ্যায় মোট দানের পরিমাণ জানা যাবে।
সাধারণত প্রতি তিন মাস পর দানবাক্স খোলা হলেও এবার প্রায় ছয় মাস পর তা খোলা হয়েছে। ফলে দানের পরিমাণ নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এবারও বিপুল নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশ-বিদেশ থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মানত, কৃতজ্ঞতা ও বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এখানে নগদ অর্থ, গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। এসব অর্থ মসজিদের উন্নয়ন, এতিম ও অসহায় মানুষের সহায়তা এবং ব্যয় করা হয় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে।
আজ সকাল ৯টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দান গণনা শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ এবং রূপালী ব্যাংকের এ জি এম মোহাম্মদ আলী হারেছী।
গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন মোট প্রায় ৬০০ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৪০৬ জন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী, ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী, ১৬ জন র্যাব সদস্য, ৩৫ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য, ১০ জন আনসার সদস্য, ৪ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য এবং ১৩০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এর আগে তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হলে ৩৫ বস্তা ভর্তি টাকা পাওয়া যায়। সেবার গণনা শেষে মোট দানের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা।
এ ছাড়া স্বর্ণ, রুপা, সৌদি রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এবার প্রায় ছয় মাসের দান একসঙ্গে জমা হওয়ায় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





