যে গ্রামে ঈদের আনন্দ বদলে গেল শোকে

সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জনকে হারিয়ে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে কান্নার রোল। ছবি: আগামীর সময়
ঈদের পরই বিয়ে করার কথা ছিল তারেক হোসেনের। গতকালও বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ। আজ সেখানে কেবল কান্নার আওয়াজ। স্বজনরা এখন তারেকের মরদেহের অপেক্ষায়। টাঙ্গাইলের ট্রাক দুর্ঘটনায় আজ সকালে থেমে গেছে ২১ বছরের এই যুবকের প্রাণ।
চট্টগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গগামী রডবোঝাই ট্রাকে ছিলেন তারেক। ঈদের ছুটিতে কম ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে ওই ট্রাকে উঠেছিলেন তারেকের মতো অন্তত ২২ জন। পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় উল্টে খাদে পড়ে যায় ট্রাকটি। নিহত হন ১৫ জন।
নিহতদের মধ্যে তারেকসহ ৯ জনের বাড়ি মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। তারা নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। স্থানীয়রা বলছেন, কম খরচে বাড়ি ফিরতে ফেনীর মহাসড়ক থেকে রডবোঝাই ট্রাকে চড়েছিলেন তারা।
তারেকের বাড়ি গিয়ে কথা হলো তার ফুপু খাদিজার সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘ঈদের পরই তারেকের বিয়ের কথা চলছিল। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটার। সেই ছেলে আজ লাশ হয়ে ফিরবে।’
ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ভাড়া লাগে। অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন- বলছিলেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের ফিরোজ হোসেন।
আজহারুল ইসলাম নামে আরেকজন জানালেন, একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু এই গ্রামে আগে কখনো হয়নি। তারা নিম্নআয়ের মানুষ এবং নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান আজহারুলের।
দুর্ঘটনায় এ গ্রামের নিহতরা হলেন, মো. সুলতানের ছেলে তারেক (২১), আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক (২৪), আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশাহ (২৮), একাব্বরের ছেলে সোহাগ (২১), শহিদুলের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬), জাদব আলীর ছেলে মাইনুল (৩০), আব্দুর রশিদের দুই ছেলে ময়নুল ও গিয়াস এবং একই গ্রামের সাগর (২৬)।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বললেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনতে টাঙ্গাইল থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।








