রাজবাড়ীর সেই ১০ প্রার্থী পেলেন প্রাথমিকের নিয়োগপত্র

প্রতীকী ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া রাজবাড়ীর সেই ১০ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওয়েব পোর্টালে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের আদেশ জারি করে। ওই আদেশে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশ হওয়ার পরও ১০ জনের নাম নিয়োগের আদেশে না থাকায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। নিয়োগ দেওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মোট ৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পান। তাদের মধ্যে ছয়জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ৭৮ জনের মধ্যে ৬৮ জনের নিয়োগের বিষয়ে আদেশ জারি হলেও ১০ জনের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা না পাওয়ায় তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ৮৪ জনের মধ্যে ছয়জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ১০ জনের সন্তোষজনক প্রতিবেদন না আসায় প্রথমে তাদেরকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। পরে নতুন নির্দেশনায় বাদ পড়া ১০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীতে ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বর্তমানে জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগযোগ্য শূন্য পদ রয়েছে ১০১টি।
গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
চুড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় ছিলেন বালিয়াকান্দির অনিক কুমার মণ্ডল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নিয়োগের আদেশ প্রকাশের পর নিজের নাম না দেখে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।
তিনি বললেন, ‘আজ সোমবার আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েব পোর্টালে আপলোড করা নিয়োগপত্রে আমার নামও রয়েছে। নিয়োগপত্র না পাওয়ায় আমার মা-বাবা অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ায় আমাদের পরিবারের সেই দুশ্চিন্তার অবসান হয়েছে। এ সময়ে পাশে থাকা গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’




