মাল্টা-কমলার বাগান গড়ে বদলে গেছে রাজুর ভাগ্য

নিজের বাগানে সফল কৃষি উদ্যোক্তা রাজু আহমদ। ছবি : আগামীর সময়
জীবনে একের পর এক ব্যর্থতা। ব্যবসায় লোকসান, অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। চারপাশের মানুষও খুব একটা আশার কথা শোনাননি। কিন্তু হাল ছাড়েননি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামের রাজু আহমদ। শেষ পর্যন্ত কৃষিকেই বেছে নেন নতুন সম্ভাবনার পথ হিসেবে। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন তিনি এলাকায় পরিচিত একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।
নানা ব্যবসায় ব্যর্থ হওয়ার পর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাল্টা, কমলা ও লেবুর চাষ শুরু করেন রাজু আহমদ। প্রায় এক একর জমিতে ৯০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তার। শুরুতে পরিবারের সদস্যসহ অনেকেই এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সংশয় কেটে যায়। পরিশ্রম আর পরিকল্পনার সুফল পেতে শুরু করেন তিনি।
শুরুতে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন রাজু। মাত্র এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই লাখ টাকার ফল বিক্রি করেন। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ৭০০টির বেশি মাল্টা, কমলা ও লেবুর গাছ। মৌসুমে উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রি হয়। প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।
এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নিজের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করেছেন রাজু আহমদ। একই সঙ্গে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ফলন বাড়াতে নিজেই জৈব সার তৈরি করছেন।
রাজু আহমদ বলেন, ‘আমি এক সময় নানা ব্যবসা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। তখন অনেকেই আমাকে নিরুৎসাহিত করেছে। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করেছি। আজ এই বাগানই আমার পরিচয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মাল্টা-কমলার বাগান আমাকে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, দেশের মাটিতে, নিজের গ্রামেই থেকে সফল হওয়া সম্ভব। যুবকদের বলব, বেকার বসে না থেকে কৃষি কিংবা যেকোনো উদ্যোক্তা হন। ইনশাআল্লাহ, সফলতা আসবেই।’
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, রাজু আহমদ একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী, আগ্রহী ও উদ্যমী কৃষি উদ্যোক্তা। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি পরিকল্পিতভাবে মাল্টা ওয়ান জাতের বাগান গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই রাজুকে উন্নতমানের চারা, সার, বালাইনাশক, সেচসুবিধা এবং নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুকনা মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় ডিপ ইরিগেশন ব্যবস্থা এবং জৈব সার ব্যবহারের জন্য ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনেও সহায়তা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে তার বাগানে ভালো ফলন হচ্ছে এবং তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয় মনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, রাজু আহমদের এই সাফল্য বড়লেখার অন্যান্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। আগ্রহী কৃষকদেরও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।






