মুক্তিপণ দিয়ে ১১ দিন পর ফিরলেন সেই চার জেলে

সুন্দরবন— সংগৃহীত ছবি
সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হওয়ার ১১ দিন পর মুক্তি পেয়েছেন সাতক্ষীরার চার জেলে। দস্যুদের দাবীকৃত মুক্তিপণের ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের পর বৃহস্পতিবার ভোরে সুন্দরবনের অভ্যন্তরের একটি খালে তাদের রেখে যায় দস্যুরা। পরে স্বজনরা নৌকা নিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
মুক্তি পাওয়া জেলেরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলী গ্রামের সুলতান খাঁর ছেলে শাহাজান খাঁ, দিলবার খাঁর ছেলে ইয়াছিন খাঁ, একই ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে শাহাজান আলী এবং নজরুল গাইনের ছেলে শরিফুল ইসলাম।
স্বজনরা জানান, গত ২৫ মে কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে তারা সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যান। বন বিভাগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩১ মে রাতের মধ্যে তাদের লোকালয়ে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেরার পথে পশ্চিম সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল ও সুবদের খাল এলাকায় বনদস্যুদের কবলে পড়েন তারা। ওই রাতে পাঁচটি মাছ ধরার নৌকায় অভিযান চালিয়ে দস্যুরা তাদেরসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করে।
অপহরণকারীরা নিজেদের কুখ্যাত ‘নানাভাই/ডন বাহিনীর’ সদস্য পরিচয় দিয়ে জেলেদের মুক্তির জন্য প্রথমে সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে জেলেদের মহাজন ও স্বজনদের সঙ্গে দেনদরবারের মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে জেলেদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে আরও কয়েক দিন তাদের আটকে রাখা হয়।
অপহৃত জেলে শাহাজান খাঁর চাচাতো ভাই আবুল হোসেন দাবি করেন, ‘মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার পরও আমরা কয়েকদিন ধরে তাদের ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। দস্যুরা বলছিল সুন্দরবনে নৌকা চলাচল কম থাকায় তাদের পাঠানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পাই, সুন্দরবনের একটি খালে তাদের রেখে যাওয়া হয়েছে। পরে আমরা নৌকা নিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি।’
ফিরে আসা জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ ১১ দিন জিম্মি অবস্থায় থাকায় তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বনদস্যুদের নির্যাতন ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের।
এর আগে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও জেলেদের মুক্তি না পাওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। গত ৭ জুন অপহৃতদের কয়েকজন মহাজন ও স্বজন সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গিয়ে তাদের খোঁজ করেন। তবে তখন তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অপহৃত জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেছেন, ‘অপহৃত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। ফেরার পথে তারা দস্যুদের কবলে পড়েন। তাদের ফিরে আসার বিষয়টি আমরা জেনেছি।’







