হাজীরহাটে জেটি ভেঙে নদীতে, চরম ভোগান্তিতে লঞ্চযাত্রীরা

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর দশমিনার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাজীরহাট লঞ্চঘাটে বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনালের সংযোগ জেটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে নদীতে পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করছেন হাজারো যাত্রী। জেটি ভেঙে যাওয়ায় টার্মিনালে সরাসরি লঞ্চ ভেড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে নদীর তীরবর্তী খোলা জায়গায় লঞ্চ নোঙর করে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে।
বিশেষ করে ভাটার সময় পানি কমে গেলে তীর থেকে লঞ্চের দূরত্ব বেড়ে যায়। তখন হাঁটু-কোমরসমান কাদা-পানি পেরিয়ে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ভোলা, চরফ্যাশন, মনপুরাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন এ ঘাট ব্যবহার করেন।
ঢাকাগামী যাত্রী সোহাগ হোসেন জানান, জেটি না থাকায় বিশেষ করে রাত ও ভোরে লঞ্চে ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যাত্রী শিরিন সুলতানা দ্রুত নতুন জেটি নির্মাণের দাবি জানান।
এমভি পূবালী-৬ লঞ্চের চালক মনির হোসেন জানান, টার্মিনালের পরিবর্তে উন্মুক্ত স্থানে লঞ্চ ভিড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো ঝুঁকিপূর্ণ।
ঘাটের ইজারাদার সাওফাত হোসেন জানান, ভাঙা জেটির কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. জাকী শাহরিয়ার জানান, নদীভাঙনে জেটির নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এটি ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি প্রকৌশল শাখাকে জানানো হয়েছে। নতুন জেটি নির্মাণে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কারণে সময় লাগবে। আপাতত পন্টুনটি দক্ষিণ পাশের ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, হাজীরহাটসহ বাঁশবাড়িয়া ও আউলিয়াপুর পন্টুন টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কারের আশ্বাস পাওয়া গেছে।




