সেরা তালিকায় পল্লীর স্কুলটি

ছবি: আগামীর সময়
বেজে চলেছে টিফিনের ঘণ্টা। কিন্তু পাঠাগার ছেড়ে উঠতে রাজি নয় কেউ। দেয়াল জুড়ে শিক্ষার্থীদের নিজের হাতে আঁকা রঙিন ছবি। ছোট্ট শিশুরা সেই চিত্রকর্মের দিকে তাকিয়ে শিখছে বর্ণমালা। প্রথম দেখায় যে কেউ এটিকে শহরের কোনো নামকরা বিদ্যালয় বলে ভুল করতে পারেন। অথচ এটি লক্ষ্মীপুর শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নান্দনিক পরিবেশ, আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার বিদ্যালয়টি পেয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মান।
ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। ১৪১ বছরের পথচলায় এটি শুধু শিক্ষাদানেই নয়, শিক্ষার্থীদের মানবিক, সৃজনশীল ও নৈতিক বিকাশেও রেখে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, ঝরে পড়ার হার প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা, পাঠদানের গুণগত মান বাড়ানো এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য মিলেছে এ স্বীকৃতি।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত ৪২৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। নিশ্চিত করা হয়েছে বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ইউনিফর্ম এবং আইডি কার্ড। বিদ্যালয়ের ১১টি শ্রেণিকক্ষই শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানো। প্রতিটি কক্ষের নামকরণ করা হয়েছে দেশের বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক ও বীরশ্রেষ্ঠদের নামে।
বিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ এর সমৃদ্ধ পাঠাগার। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সাত শতাধিক বইয়ের সংগ্রহ। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘আনন্দ পাঠাগার’। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সৃজনশীল কার্যক্রম।
প্রধান শিক্ষক এ কে এম শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী বললেন, ‘আমরা শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুস্থ ও আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। সুন্দর পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে।’
রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমরান হোসেন বললেন, ‘সেরা হওয়ার লক্ষ্যে এ বিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এমন আশাব্যঞ্জক ফলাফলে আমরা অবশ্যই খুশি। জাতীয় পর্যায়ে স্কুলটি সেরা হওয়ার আশা রাখি।’




