সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল
বেতন নেই ৭ মাস, হঠাৎ শুনি চাকরিও নেই

সংগৃহীত ছবি
বেতন নেই ৭ মাস। তার ওপর চাকরি না থাকার খবর। চরম হতাশায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যালে কর্মরত আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীরা। কিশোরগঞ্জের এ হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী ১৬০ জন। তারা কাজে যোগ দিয়েছেন ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন বিভাগে।
রমজান ঈদের আগে তাদের বেতন বকেয়া ছিল ৯ মাসের। পরে কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করে ৩ মাসের বেতন। বর্তমানে অনেক কর্মীরই বেতন বকেয়া ৬ থেকে ৭ মাসের।
জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল কিছু কর্মীকে বেতন দেওয়া হলেও ১৬০ জনের মধ্যে কোনো বেতন পাননি ২২ জন। অভিযোগ, ওই ২২ জনের চাকরি নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বলেছেন, চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, এমনকি তাদের দেখানো হয়নি কোনো কারণও।
‘এখানে কাজ করছি ২০১৯ সাল থেকে। বেতন নেই গত ৭ মাস। অথচ আমি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। হঠাৎ শুনি, আমার চাকরি নেই। এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’— জানান রেডিওলজি বিভাগের কর্মচারী আল আমিন হোসাইন।
কার্ডিওলজি বিভাগের কর্মী আজিজুল হকের মন্তব্য, ‘আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বেতন বকেয়া ছিল ৯ মাস। পেয়েছি ৩ মাসের। এখন আরও কয়েক মাসের বেতন বাকি। এর মধ্যে শুনছি চাকরি নেই এটা আমাদের জন্য ভয়াবহ।’
‘আমরা প্রতিদিন কাজ করছি, হাজিরা দিচ্ছি ডিজিটালভাবে। আমাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে হাসপাতালে। কিন্তু বেতন নেই, আবার বলা হচ্ছে চাকরিও নেই। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’— ভাষ্য পাম্প অপারেটর হাবিব হাসানের।
হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ সিকিউরিটি সার্ভিস। প্রতিষ্টানটির বিরুদ্ধেও হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন কর্মচারীরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি বলেও অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার জানা মতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকেই চাকরি ছেড়ে চলে যান আত্মগোপনে। বিষয়টি হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক জানান নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে। এর প্রেক্ষিতে রিপ্লেস করা হয় অনেককেই। আউটসোর্সিংয়ের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনায় থাকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগ, বেতন ও ছাঁটাই সবকিছুর সিদ্ধান্ত ওই প্রতিষ্ঠানের। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ সীমিত।’
অন্যদিকে গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক খান স্বপন স্পষ্ট করেন, ‘আমার জানা ছিল না ২২ জন কর্মীর সমস্যা। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করব। নেব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ পাঠাতে পারেন ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপেও।
এ পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিকার আদায়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতাল চত্ত্বরে মানববন্ধন করেছেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। তাদের দাবি, দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ, ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরি পুনর্বহাল। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

