শিশু পরিবারে অনিয়মের অভিযোগ, প্রতিবাদ জানানো শিশু নিখোঁজ

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি শিশু পরিবারে এতিম শিশুদের নির্যাতন ও খাদ্য সামগ্রী বাইরে বিক্রির ওঠেছে অভিযোগ। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানানো এক শিশু ছয় দিন ধরে রয়েছে নিখোঁজ।
নিখোঁজ শিশু উজ্জ্বল (১১) পিতামাতার পরিচয়হীন। গত বৃহস্পতিবার থেকে সে নিখোঁজ বলে জানিয়ে শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ সদর মডেল থানায় দেওয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ।
শিশু পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার দিন ‘বড় ভাইয়া’ হিসেবে দায়িত্বে থাকা কর্মচারী আবিদুল ইসলাম পলাশের সঙ্গে উজ্জ্বলের ঘটে হাতাহাতির ঘটনা। উজ্জ্বল কর্মচারীকে ঘুষি মারার পর অন্য শিশুরা ক্ষুব্ধ হলে সেখান থেকে চলে যায় সে।
তবে নিখোঁজ হওয়ার আগে উজ্জ্বলের একটি ভিডিও বক্তব্যে শিশু পরিবারে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ আসে ওঠে। সেখানে সে দাবি করে, বরাদ্দকৃত খাদ্যের একটি অংশ বাইরে করা হয় বিক্রি। কম দামে কেনা পোশাক বেশি দামে দেখিয়ে করা হয় হিসাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্তরা জড়িত এসব অনিয়মে।
উজ্জ্বল আরও অভিযোগ করে, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে দেওয়া হতো গালাগাল ও হুমকি। এমনকি উপপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিলে তাকে জেলে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি তার।
এছাড়া শিশু পরিবারে খাবারের মান, পোশাক সরবরাহ ও তদারকির ঘাটতি নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। অনেক শিশুর হাতে মোবাইল ফোন দেখা যাওয়ায় শৃঙ্খলা নিয়েও ওঠেছে প্রশ্ন।
১০০ আসনের এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিশু রয়েছে ৭১ জন। তাদের জন্য মাথাপিছু মাসিক পাঁচ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ওঠেছে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার।
শিশুদের অভিযোগ, সাপ্তাহিক খাদ্য তালিকায় ইলিশ মাছ থাকলেও তা দেওয়া হয় না নিয়মিত। ভালো খাবার কর্মকর্তাদের বাসায় নিয়ে যায়। শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী নিয়েও বঞ্চনার কথা জানায় তারা।
নিখোঁজ উজ্জ্বলকে ২০১৭ সালে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার একটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করে রাখা হয় সিলেটের সেফ হোমে। পরে ২০২৪ সালে তাকে হবিগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে করা হয় স্থানান্তর। সেখানেই তার নাম রাখা হয় ‘উজ্জ্বল’।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নিপুন রায়। তার ভাষ্য, উজ্জ্বল নিজেই কর্মচারী ও অন্য শিশুদের মারধর করে প্রতিষ্ঠান থেকে যায় বের হয়ে। এর আগেও সে পালিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী উজ্জ্বল ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেছিল। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উজ্জ্বলকে উদ্ধারে চলছে অভিযান এবং তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বিষয়টি।




