বাড়ির সামনে রাস্তা চেয়ে কারিনা কায়সারের বাবা-মায়ের মানববন্ধন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় রাস্তার দাবিতে এলাকাবসীদের নিয়ে মানববন্ধন করেছেন কায়সার হামিদ এবং লোপা কায়সার। ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি আব্দুল্লাহপুর গ্রামে ১০০ ফুট রাস্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী লোপা কায়সার। তারা দুজন প্রয়াত কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের বাবা-মা।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে আব্দুল্লাহপুর-পুরান বাউশিয়া সড়কে। পরে আব্দুল্লাহপুর গ্রাম থেকে ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন অংশগ্রহণকারীরা।
কায়সার হামিদ বলেছেন, ‘এটি আমার শ্বশুরবাড়ির এলাকা। আমার শাশুড়ি এখানে একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা বর্তমানে পারিবারিক বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু রাস্তা না থাকায় সেখানে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা যায় না।’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানালেন, ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাউশিয়া বহুমুখী উন্নয়ন সমিতি মার্কেটের পেছনে গড়ে উঠেছে আব্দুল্লাহপুর গ্রাম। কয়েক বছর আগে এ গ্রামে স্থানীয়দের সম্মতিতে ১০০০ ফুট দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে রাস্তার বেশিরভাগ অংশ নির্মাণ সম্পন্ন হলেও অলিউল্লাহ তাঁতি ও মজিবুর তাঁতি নামে দুই পরিবারের আপত্তির কারণে প্রায় ১০০ ফুট অংশের কাজ শেষ করা যায়নি। সম্প্রতি ওই স্থানে তারা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রা।
কায়সার হামিদের অভিযোগ, ‘শুধু আমাদের পরিবার নয়, দুটি পরিবারের আপত্তির কারণে দুর্ভোগে রয়েছে পুরো গ্রামের শতাধিক পরিবার। ১০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা না যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল। এমনকি কেউ মারা গেলে মরদেহ খাটিয়ায় করে বের করা কিংবা কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানানো হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনকে। সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।’
তার স্ত্রী লোপা বলেছেন, ‘রাস্তার শেষ প্রান্তে আমার মায়ের বাড়ি। কিছুদিন আগে আমার মেয়ে কারিনা কায়সার মারা গেছে, তার মরদেহও এই রাস্তা দিয়ে নিতে পারিনি।’
তার ভাষ্য, ওই দুটি পরিবারকে বারবার রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। তবে তারা রাজি হননি। উপযুক্ত মূল্য দিয়ে রাস্তার জন্য জমি কিনে নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তাতেও রাজি হননি তারা। তাই এলাকাবাসীর স্বার্থে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন এই দম্পতি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়া খাতুন বলেছেন, ‘মাত্র দুটি পরিবার বন্ধ করে রেখেছে প্রায় ১০০টি পরিবারের চলাচলের পথ। রাস্তার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করছি। দ্রুত রাস্তা উন্মুক্ত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মজিবুরের বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বড় ছেলে মো. নাজমুল হাসান স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক।
তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত জমির পাশ ঘেঁষে স্থানীয়দের যাতায়তের জন্য ওই রাস্তা করা হয়েছে। রাস্তার জন্য আমরা দুই পাশের জমির মালিকরা দেড় ফুট করে মোট তিন ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের ভরাটকৃত জমিতে সীমানাপ্রাচীর তুলেছি। ওই জমির বাজারমূল্য অনেক বেশি। আমরা এর চেয়ে বেশি জায়গা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছি।’
ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন জানিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া।





