নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নলকূপ খননে ব্যবহার করা হচ্ছে গোবর
- নলকূপ খননে গোবর মিশ্রিত পানির ব্যবহার নিষিদ্ধ
- বোরিংয়ের দেয়াল যাতে না ধসে যায়, এ জন্য গোবর দিতে হয়—ঠিকাদার সৈয়দ আহমেদ

নলকূপ বসানোর কাজে বোরিং ফ্লুইড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গোবর। ছবি: আগামীর সময়
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রামীণ বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, নলকূপ বসানোর এ কাজে বোরিং ফ্লুইড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গোবর। যদিও গোবর মিশ্রিত পানির ব্যবহারে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই চলছে নলকূপ বসানোর কাজ।
নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় চলছে এ কাজ।প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি। এর আওতায় উপজেলার গালা ইউনিয়নের কৌড়ী গ্রামে পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পেয়েছে রহমান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কর্ণধার সৈয়দ আহমেদ। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের ও আশপাশের এলাকায় ৩০০ বাড়িতে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। এই কাজের জন্য একটি কমিটি করা হবে এবং সেই কমিটি এর দেখভাল করবেন। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো টাকা খরচ হলে সেটি সুবিধাভোগীরা সমানহারে বহন করবেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাইপ স্থাপনের জন্য বোরিংয়ের সময় দুর্গন্ধযুক্ত পঁচা গোবর ব্যবহার করা হচ্ছে। এ গোবর ব্যবহার করা হচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। এ বিষয়ে একাধিকবার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি নলকূপ খননের সময় বোরিং ফ্লুইড হিসেবে গোবর মিশ্রিত পানির ব্যবহার বন্ধে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, গোবর ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ পানিস্তর দূষণের সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী উৎস হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। খননের সময় অবশ্যই বোরিং ফ্লুইড হিসেবে বেন্টোনাইট-ক্লে (এক ধরণের রাসায়নিক) মিশ্রিত পানি ব্যবহার করতে হবে। কোনোক্রমেই গোবর ব্যবহার করা যাবে না। গোবর ব্যবহার করলে সেই কাজ গ্রহণযোগ্য হবে না এবং কোনো বিল দেওয়া যাবে না। বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।
তবে, সেই নির্দেশনা অমান্য করে কাজ চললেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
ঠিকাদারের পক্ষে কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মো. বেলাল হোসেন বলেছেন, ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন গোবর ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তবে, গোবর ব্যবহার করলে বোরিং করতে সুবিধা হয়। আমরা বোরিং করতে গোবর, বেন্টোনাইট-ক্লে এবং লাল মাটি সবকিছুই ব্যবহার করছি।’
হরিরামপুর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন বললেন, ‘বোরিংয়ের কাজে গোবরের ব্যবহার দেখে মিস্ত্রিদের আমি নিষেধ করেছি।’
গোবর ব্যবহার করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা কোনো উত্তর দেননি।
গোবর ব্যবহারের কথা স্বীকার করে ঠিকাদার সৈয়দ আহমেদ বলেছেন, ‘বোরিংয়ের দেয়াল যাতে না ধসে যায়, এ জন্য গোবর দিতে হয় ৷ বেন্টোনাইট দিলে কাজ হয় না। গোবর দিলে কাজ হয়।’
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ফাতিমা ফেরদৌসকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।





