রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুকে পরিবারে হস্তান্তর

রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশুটি ৬ ঘণ্টা পরে পরিবারের কাছে ফিরেছে। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি শিশু নাফিসাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় শিশুটিকে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতিতে তারা নাশতা করেন। বিরতি শেষে ফের যাত্রা শুরু করলেও হোটেলে ফেলে যান দুই বছরের শিশুকে।
ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল শিশুটির পরিবার ভারতের কাশ্মির থেকে এসেছে। তবে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা পাকিস্তানের নাগরিক। পরিবারটি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে শনিবার সকালে দুটি গাড়িতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল।
তিনি আরও জানান, জাইতুন রেস্টুরেন্ট থেকে রওনা দেওয়ার পর বাবা-মা ভেবেছিলেন নাফিসা দাদা-দাদির গাড়িতে উঠেছে। অন্যদিকে দাদা-দাদিও মনে করেছিলেন, শিশুটি বাবা-মায়ের সঙ্গেই রয়েছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণে নাফিসা রেস্টুরেন্টেই থেকে যায়।
পরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারটি কুমিল্লায় ফিরে আসে।
এদিকে রেস্টুরেন্টের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় খবর দেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানালেন জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তায় পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।




