ভাঙা সেতুতে ৯ বছরের দুর্ভোগ

বন্যায় ভেঙে যাওয়া দিনাজপুরের বীরগঞ্জের সিংড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন সেতুটি পুননির্মাণ করা হয়নি। ছবি: আগামীর সময়
২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে গেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের সিংড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সেতুটি। প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি নতুন করে নির্মাণকাজ। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা।
সেতুটি অবস্থিত উপজেলার ৮ নম্বর ভোগনগর ইউনিয়নের সিংড়া শালবন এলাকায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবিতে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। তবে এখনো নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেছেন, ‘সেতু ভেঙে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও কোনো কাজ হয়নি। অতিরিক্ত পথ ঘুরে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।’
কৃষক হরিস চন্দ্র বলেছেন, ‘আগে ধান, ভুট্টা, গম ও সবজি সহজেই বাজারে নেওয়া যেত। এখন বেশি পথ ঘুরতে খরচ বেড়েছে এবং লাভ কমে গেছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ জানিয়েছেন, ভাঙা সেতুর কারণে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসা পরিচালনা।
কলেজ শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেছেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যেতে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদা বেগম জানিয়েছেন, কোনো রোগী অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে রাত ও বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
সেতুটি ভেঙে থাকায় সিংড়া জাতীয় উদ্যানে ভ্রমণেও বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসফর বাতিল হচ্ছে। আবার অনেক পর্যটক যানবাহন দূরে রেখে হেঁটে উদ্যানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা হুমায়ুন আহমেদ আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তার ভাষ্য, ‘চলতি মাসের মধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে সেখানে একটি বেইলি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রায় ৩০৫ দশমিক ৬৯ হেক্টর আয়তনের সিংড়া জাতীয় উদ্যান উত্তরাঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় বনভূমি।





