অতি লাজুক লালঘাড় পেঙ্গার দেখা মিলল রাজারহাটে

কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে এক জোড়া লালঘাড় পেঙ্গার ছবি তুলেছেন রানা মাসুদ
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রজাতির একটি বিরল পাখি লালঘাড় পেঙ্গা। ভিতু স্বভাবের এই পাখিরা ঘুরে বেড়ায় দলবদ্ধভাবে।ঝোপঝাড় ছাড়াও এদের দেখা যায় পাহাড়ি লোকালয়ে। পাহাড়ি টিলার ঝোপ-জঙ্গল এদের বেশি পছন্দ।
সহজে চোখে না পড়া এই অতি লাজুক পাখির দেখা মিলেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। সম্প্রতি সেখানে পাখিটির ছবি তুলেছেন সৌখিন ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার ও লেখক রানা মাসুদ।
রানা মাসুদ বলেছেন, ‘লালঘাড় পেঙ্গার মূল আবাস পাহাড়ি অরণ্য। তবে কখনো কখনো লোকালয়েও দেখা যায়। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বেশি দেখা মেলায় অনেকে মজার ছলে এলাকাটিকে লালঘাড় পেঙ্গার ‘রাজধানী’ বলে থাকেন। পাখিটি সাধারণত জোড়ায় বা ছোট দলে চলাফেরা করে। বাঁশঝাড়, ঝোপঝাড় এবং পাহাড়ি টিলার গাছপালা এদের প্রিয় আবাস।’
আকারে শালিকের মতো এই পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার। দেহ লালচে-বাদামি, মাথা কালচে ধূসর এবং কপাল, গলা, কান, বুক ও গাল কালো। ঘাড়ে লালচে পট্টি থাকায় এর নাম হয়েছে লালঘাড় পেঙ্গা। এ ছাড়া চোখ বাদামি, ঠোঁট কালো, পা ধূসর-কালো এবং লেজের নিচের অংশ লালচে।
মার্চ থেকে আগস্ট এদের প্রজনন মৌসুম। সাধারণত মাটি থেকে দেড় থেকে দুই মিটার উঁচুতে ঝোপের ওপর বাঁশপাতা, ঘাস, শিকড় ও আগাছা দিয়ে বাসা তৈরি করে। তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে স্ত্রী পাখি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। পোকামাকড় ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ এদের প্রধান খাবার।
বাংলাদেশের পাখির ফিল্ড গাইড বই অনুযায়ী, লালঘাড় পেঙ্গা মূলত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে দেখা যায়। তবে বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর, কুড়িগ্রামসহ দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও এদের উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও চীনে বিস্তৃতি রয়েছে এই পাখির।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) তালিকায় লালঘাড় পেঙ্গার সংরক্ষণ অবস্থা ‘ন্যূনতম উদ্বেগ’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
রানা মাসুদ জানান, দেশীয় পাখি হলেও সংখ্যায় কম হওয়ায় এদের দেখা পাওয়া কঠিন। দিনের বেশির ভাগ সময় ঝোপের আড়ালে থাকে। ভোর ও বিকেলের শেষ ভাগে বেশি বের হয়।
তার ভাষ্য, লালঘাড় পেঙ্গাকে টিকিয়ে রাখতে হলে বন, চা-বাগানসংলগ্ন ঝোপঝাড়, পাহাড় ও টিলার প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা জরুরি।





