আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষক দুখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন

ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন অদম্য নরসিংদীর সেই শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকার প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেনে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।
গত ২ অক্টোবর ‘আগামীর সময়’-এর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘কেউ কেউ হার মানেন না’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি করে। এ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে নরসিংদীর জেলা প্রশাসককে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিভিন্ন উপহার নিয়ে শিক্ষক দুখু মিয়ার পাশে হাজির হন তিনি।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানিয়েছেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে দুই হাতবিহীন অদম্য শিক্ষক দুখু মিয়ার পাঠদান নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বিদ্যালয়টির নিবন্ধনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলব্যাগ, বিভিন্ন খেলনাসামগ্রী এবং গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি। এ ছাড়া দুখু মিয়াকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। দুখু মিয়ার স্বপ্ন যেন বাস্তবায়িত হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে জেলা প্রশাসন।
এদিকে ২০০৭ সালে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া জানান, বর্তমান সরকারপ্রধান তার বিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, সেটি জেনে তিনি আনন্দিত। তার স্বপ্ন বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিভা দুখু মিয়া বিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ হবে। সেই সঙ্গে ‘আগামীর সময়’-এর প্রতিবেদক, সম্পাদক ও কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তাদের সংবাদটি সারা দেশে সাড়া জাগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
নিজের দুই হাত না থাকলেও থেমে নেই দুখু মিয়ার জীবনযুদ্ধ। পা দিয়েই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪৫ শিশু পড়াশোনা করছে।
১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শৈশবেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। বাবা পাতিলের কালি ও পানি মিশিয়ে কঞ্চি ও কলাপাতায় লেখার মাধ্যমে তাকে পা দিয়ে লিখতে শেখান। এরপর সেই পা দিয়েই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস করেন তিনি।
শিক্ষাজীবন শেষ করে শুরু হয় কর্মসংস্থানের লড়াই। চাকরির আশায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন এবং নানা জায়গায় ঘুরেছেন। তবে হতাশা তাকে থামাতে পারেনি। বাবার দেওয়া জমি বিক্রির টাকা যোগ করে ২০০৭ সালে নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন।





