তালতলী
আয় বন্ধ জেলেদের, ভরসা ২৫ কেজি চাল

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ঘাটের পাশে বসে পুরানো জাল ঠিক করছেন জেলেরা। ছবি: আগামীর সময়
নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ হওয়ায় আয়ের পথও বন্ধ হয়েছে। তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ। কেউ মেরামত করছেন পুরনো জাল, কেউ ব্যস্ত ট্রলার সংস্কারে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবারও নদীতে নেমে জীবিকার চাকা সচল করার আশায় দিন কাটছে বরগুনার তালতলীর জেলেদের।
তবে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সরকারি সহায়তার ২৫ কেজি চাল দিয়ে পুরো পরিবারের খাবারের জোগান দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। আয় বন্ধ থাকায় সংসারের অন্যান্য খরচ মেটাতে ধারদেনা করতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন জেলেরা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তালতলীর সাতটি ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮ হাজার ৭৯৯ জন। তাদের মধ্যে ৬ হাজার জেলে নিষেধাজ্ঞাকালে সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল পাবেন।
জেলেদের দাবি, এই চাল দিয়ে কয়েক দিনের খাবারের ব্যবস্থা হলেও ২২ দিন সংসার চালানো কঠিন। খাবারের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটানো নিয়েও চিন্তায় আছেন তারা।
তালতলীর পায়রা নদী, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার অনেক জেলের জীবিকা মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন মাছ ধরে যে আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাদের সংসার। কিন্তু ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে নৌকা ও ট্রলার।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ফকিরহাট, নিদ্রাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ধরতে না পেরে অবসর সময়ে জাল মেরামত ও ট্রলার সংস্কার করছেন জেলেরা। তবে কাজের ফাঁকেও তাদের চোখেমুখে সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা স্পষ্ট।
জেলে নিজাম, কালাম ও সোনা মিয়াসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, নদীতে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও পরিবারের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো থেমে থাকে না।
তারা জানালেন, ২৫ কেজি চাল দিয়ে কয়েক দিনের খাবারের ব্যবস্থা হলেও বাকি দিনগুলোয় কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে তারা চিন্তিত। এ সময়ে পরিবারের খরচ মেটাতে ধারদেনা করতে হতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোয় খাদ্যসহায়তা ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান।
তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞাকালে উপজেলার জেলেদের সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত জেলেরা যাতে এ সহায়তা পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলেদের কোনো সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে তা জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




