আটকে পড়া শতাধিক পর্যটক ফিরলেন থানচি সদরে

নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন পর্যটকরা - আগামীর সময়
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া শতাধিক পর্যটক নিরাপদে উপজেলা সদরে ফিরেছেন। এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় থানচি উপজেলায় ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সাত উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। এ সময় জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান-থানচি সড়কের কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত মাটি ও পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। থানচি-নীলগিরি সড়ক সচল রাখতে সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি কাজ করছে। তবে থানচির সঙ্গে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।
সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুমসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আপাতত পর্যটকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
থানচি ইউএনও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানালেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয় রিসোর্ট মালিকদের সহযোগিতায় আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রেমাক্রী বাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে গাইডসহ ৭৪ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। নদীর পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি আরও জানালেন, আমিয়াখুম এলাকায় আটকে থাকা ১৮ জন পর্যটককে গাইডদের সহায়তায় হেঁটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাইগং ঝরনায় আটকে থাকা আরও ১০ জন পর্যটকও থানচি উপজেলা সদরে পৌঁছেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে থানচি সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের মধ্যে সব ধরনের নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস সতর্ক করলেন, সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোত, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাইকে থানচির পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তিনি বললেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।




