কবরস্থানের রাস্তার বিরোধে বাহুবলে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩৮

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় কবরস্থানের রাস্তার বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন দুজন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন।
নিহতরা হলেন আদিত্যপুর গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৫) এবং মিজাজ মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া (২৭)। তাদের দুজনের শরীরেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার আরিছপুর ও আদিত্যপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ঘটে সংঘর্ষের ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিছপুর থেকে আদিত্যপুর এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনকারী কয়েকটি পরিবার স্থানীয় কবরস্থানের রাস্তার পাশে বেড়া দেয়। এ নিয়ে আদিত্যপুর গ্রামের লোকজন আপত্তি জানালে সৃষ্টি হয় বিরোধের। একপর্যায়ে বিকেলে আরিছপুরের মোশাহিদ মিয়া ও আদিত্যপুরের জাহিদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। প্রথম দফার সংঘর্ষের পর রাত ৮টায় থানায় বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা ছিল। তবে পুলিশ সরে যাওয়ার পর বাহুবল বাজার এলাকায় আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
সংঘর্ষে আহতদের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক সেলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত হেলাল মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ জানান, সেলু মিয়ার পিঠে গুরুতর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে তার। একই ধরনের আঘাতে আহত হেলাল মিয়াকেও সিলেটে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে মারা যান তিনি।
নিহতদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আদিত্যপুর গ্রামের কিছু লোকজন আরিছপুরে গিয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকটি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শুরুতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সীমিত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




