মাদারগঞ্জ
সমবায়ের ৭২০ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ সমবায় সমিতির গ্রাহকদের প্রায় ৭২০ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে উভয়পক্ষ উপজেলা চত্বর ছেড়ে গেলে কর্মসূচি পণ্ড হয়।
এ সময় উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের ২৩টি সমবায় সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সমিতির গ্রাহক ৩২ হাজার ৪২৪ জন। গ্রাহকদের অভিযোগ, তাদের প্রায় ৭২০ কোটি ১৯ লাখ ১৫০ টাকা আটকে আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসী, দিনমজুর, পোশাক শ্রমিক ও চাকরিজীবী রয়েছেন।
‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার গ্রাহক অংশ নেন। বেলা ১১টার দিকে মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা মোড় থেকে অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসেন। পরে পরিষদ ঘেরাও করে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এর আগে রবিবারও প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ সমবায়গুলোর অধিকাংশের পরিচালক আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। তাদের দাবি, জামায়াতের নেতাদেরও একাধিক সমবায় সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজু বলেছেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে আন্দোলন চলছে। এখনো গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত পাননি। গ্রাহকদের আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।’
সংসদ সদস্যের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সাধারণ গ্রাহকরা মেনে নেননি দাবি করে তিনি বলেছেন, ওই প্রতিশ্রুতি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের স্বার্থের পরিবর্তে সমবায়গুলোর মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানালেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বললেন, ‘এ বিষয়ে এমপি মহোদয় ও অর্থ উদ্ধার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তারা আন্দোলন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এখন কী কারণে আবার আন্দোলন করছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।’




