ধুনট
মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, ৯ জন হাসপাতালে

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বে দুুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এ সময় টিনের তৈরি একটি মসজিদ ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ আদায় শেষে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ এলাকা পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশ চলে আসার পরে আবারও দু'পক্ষই মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।
আহতরা হলেন- উপজেলার রামনগর গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব আলী (৫৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), সোহরাব আলীর ছেলে নুর আলম (৩০), মহির উদ্দিনের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৪), মেছের আলীর ছেলে ডাবলু হোসেন (৪০), আছের আলীর ছেলে রেজাউল প্রামানিক (৪২), আফছার আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম (৫৫), উজ্জল মিয়ার স্ত্রী সুমি খাতুন (৩০) ও মোরগ আলী প্রামানিকের স্ত্রী গোলছারা বেগম (৫৫)। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ২০০১ সালে স্থানীয়রা মিলে টিনের তৈরি একটি মসজিদ নির্মাণ করে। তবে মসজিদটি যাতায়াতের সুবিধার্থে মসজিদের ক্রয়কৃত নির্ধারিত স্থানে নির্মাণ না করে ২০০ মিটার অদূরে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে মসজিদের জায়গা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়ে দুটিপক্ষে ভাগ হয়ে যায়। পরে মসজিদের নির্ধারিত স্থানে অন্য পক্ষ ২০২১ সালে আরেকটি নতুন টিনের তৈরি মসজিদ নির্মাণ করেন।
এ ঘটনা নিয়ে দু'পক্ষের মাঝে বিরোধ আরো তুঙ্গে গিয়ে দাড়ায়। ঘটনার দিন দুপক্ষই নামাজ শেষে মুখোমুখি অবস্থানের এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটি ভাঙচুর করে মাইক, ফ্যানসহ যাবতীয় জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করা হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন।
এ বিষয়ে সোহরাব আলী বলেন, ২০২১ নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায়কালে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।
এদিকে অপর পক্ষের আবুল কালাম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করার তারা আমাকে আটক করে। সংবাদ পেয়ে স্বজনরা মসজিদের বেড়া ভেঙে আমাকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করেছে।
ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





