ঢেউ পেরিয়ে এশিয়ান গেমসে ফাতেমা

ফাতেমা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
‘মেয়ে হয়ে সমুদ্রে নামবে কেন?’ শুরুটা হয়েছিল এমন প্রশ্ন আর কটূক্তি দিয়ে। কেউ বলেছিল, সার্ফিং করলে কালো হয়ে যাবে গায়ের রঙ, হবে না বিয়ে। বাবা নেই, সংসারে ছিল অভাব। মা অন্যের বাসায় কাজ করে বড় করেছেন সন্তানদের। সেই ঘরের মেয়েটির জন্য সার্ফবোর্ড কেনা কিংবা নিয়মিত প্রশিক্ষণের খরচ জোগানোও ছিল কঠিন। তবু ফাতেমা আক্তার থামেননি।
প্রথম যেদিন সমুদ্রে নেমেছিলেন, সাঁতারই জানতেন না। ঢেউয়ের ধাক্কায় ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন। পরে সেই ভয় জয় করেছেন। সমাজের ‘বাঁকাচোখের’ ভয়ও জয় করেছেন।
এখন সেই ফাতেমার বয়স ১৬ বছর। কক্সবাজারের কলাতলীর সাধারণ পরিবারের এই কিশোরী আজ বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। সেপ্টেম্বরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসে দেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে সার্ফিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। যে সাগর একদিন তার কাছে ছিল ভয়ের, সেই সমুদ্রই এখন তার স্বপ্নের পথ। ঢেউয়ের পর ঢেউ পেরিয়ে প্রস্তুত হন এমন এক মঞ্চের জন্য, যেখানে তার সঙ্গে থাকবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
পড়াশোনার পাশাপাশি সার্ফিংয়ের প্রশিক্ষণ, যাতায়াত ও সরঞ্জামের খরচ জোগাড় করা ছিল কঠিন। একপর্যায়ে সার্ফিং ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। সেই সময় পাশে দাঁড়ান বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক রাশেদ আলম। তার তত্ত্বাবধানেই ফাতেমা ও মান্নানের এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি চলছে।
রাশেদ বললেন, ‘তাদের জন্য এখন প্রয়োজন নিবিড় প্রশিক্ষণ। এশিয়ান গেমসে তারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন, এই স্বপ্ন নিয়ে আমরা লড়ে যাচ্ছি।’ ফাতেমারও ভাষ্য, ‘আমরা অন্য কোনো দেশে গিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারলে আরও ভালো করতে পারতাম। অন্য দেশের সার্ফাররা ইন্দোনেশিয়ার মতো জায়গায় গিয়ে দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ নেয়। আমাদের সেই সুযোগ হয়নি।’
তিনি চান, বাংলাদেশের আরও অনেক মেয়ে সার্ফিংয়ে আসুক। যে কটূক্তি শুনে তাকে একদিন লুকিয়ে সাগরে নামতে হয়েছিল, ভবিষ্যতে মেয়েদের যেন সেই ভয় নিয়ে সমুদ্রে নামতে না হয়।



