বেড-চিকিৎসক সংকটে নাকাল কিশোরগঞ্জের হাসপাতাল
- জেলায় শয্যা ১,৩৫০টি, প্রতিদিন ভর্তি ১,৮৫৮ রোগী
- চিকিৎসকের প্রয়োজন ৫৯৪, নিয়মিত কর্মরত মাত্র ৩১১ জন
- রেডিওগ্রাফার ও টেকনোলজিস্ট সংকটে কোটি টাকার এক্স-রে মেশিন অচল
- করিডর ও মেঝেতে রোগী, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ চাপ অনেক হাসপাতালে

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের- বারান্দা, লিফটের সামনে রোগীরা—ছবি: আগামীর সময়
হাসপাতালের প্রতিটি বেডই রোগীতে পূর্ণ। করিডরে রাখা হয়েছে অতিরিক্ত খাট। কোথাও আবার মেঝেতে বিছানা পেতে চলছে চিকিৎসা। একজন চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন শতাধিক রোগী। অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত। কিন্তু নেই অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ। কোটি টাকার এক্স-রে মেশিন বসানো আছে। অথচ টেকনোলজিস্ট না থাকায় মাসের পর মাস সেটি অচল। এটি কোনো একটি হাসপাতালের চিত্র নয়। কিশোরগঞ্জ জেলার অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তব চিত্র এমনই।
জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০০ শয্যার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। শয্যার সংখ্যা বাড়েনি। অথচ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। চিকিৎসক নিয়োগও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। কর্মরত অনেক চিকিৎসক আবার প্রেষণ বা সংযুক্তিতে অন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে এখন তীব্র চাপে।
জেলার হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যা রয়েছে ১ হাজার ৩৫০টি। অথচ প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকেন ১ হাজার ৮৫৮ জন রোগী। অর্থাৎ শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। জেলায় চিকিৎসকের চাহিদা ৫৯৪ জন। কিন্তু নিয়মিত রোগী দেখছেন মাত্র ৩১১ জন চিকিৎসক।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০০ শয্যার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রতিদিন গড়ে ৬৯০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ ১২৩টি। কর্মরত রয়েছেন ৯০ জন।
এখানে অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট রয়েছেন। এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবাও চালু রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মোট পদ ৬২৫টি। কর্মরত ৪৭৫ জন। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের ১৬০ জন জনবল দায়িত্ব পালন করছেন।
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতাল। এখানে ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি।
হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ ৬৮টি। বর্তমানে কর্মরত ৫৩ জন। এর মধ্যে ৫ জন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন ৪৮ জন চিকিৎসক।
হাসপাতালে নিয়মিত অপারেশন, অ্যানেস্থেসিয়া, প্যাথলজি, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৩০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২৭৬ জন। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের ৯৩ জন জনবল দায়িত্ব পালন করছেন।
হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১১০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকের মোট পদ ৩৯টি। কর্মরত ২৪ জন। এর মধ্যে ৮ জন প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন মাত্র ১৬ জন চিকিৎসক। এখানে নিয়মিত সিজারিয়ান, মাইনর ও মেজর অপারেশন হয়। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্টের কোনো চিকিৎসক নেই। প্যাথলজি চালু রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম নিয়মিত করা হলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১১৮ জন। আউটসোর্সিং জনবল রয়েছেন ১২ জন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের মোট পদ ৩৮টি। কর্মরত ১৬ জন। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ১২ জন। চারজন সংযুক্তিতে রয়েছেন। এখানে মাইনর অপারেশন হয়। গাইনি কনসালট্যান্টের পদ শূন্য থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট কর্মরত রয়েছেন। প্যাথলজি চালু থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই। জিন এক্সপার্টের জনবল দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৮৭ জন। আউটসোর্সিং জনবল ১৩ জন।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের মোট পদ ৩৭টি। কর্মরত ২১ জন। এর মধ্যে ৩ জন সংযুক্তিতে, ১ জন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত এবং ২ জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট না থাকায় কোনো ধরনের অপারেশন করা যাচ্ছে না। প্যাথলজি চালু রয়েছে। এক্স-রে মেশিন এখনো স্থাপন করা হয়নি। আল্ট্রাসনোগ্রামে সফটওয়্যার সমস্যা রয়েছে। রেডিওগ্রাফারও নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৭৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৩৫ জন। আউটসোর্সিং জনবল রয়েছেন ১৫ জন।
করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৭ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের পদ ৪৫টি। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন মাত্র ১৬ জন। এখানে শুধু মাইনর অপারেশন করা হয়। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্টের পদ শূন্য। প্যাথলজি চালু থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই। আল্ট্রাসনোগ্রাম চালু রয়েছে। তবে রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২২২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৬৪ জন। আউটসোর্সিং জনবল ৪ জন।
তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪৭ থেকে ৪৮ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের মোট পদ ৩৬টি। কর্মরত ১৬ জন। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ১২ জন। এখানে শুধু মাইনর অপারেশন করা হয়। গাইনি জুনিয়র কনসালট্যান্ট সংযুক্তিতে রয়েছেন। সার্জারির জুনিয়র কনসালট্যান্ট দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। প্যাথলজি চালু থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই। স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। এক্স-রে মেশিন নষ্ট। আল্ট্রাসনোগ্রাম সচল। রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে চালু করা যাচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১০৭ জন। আউটসোর্সিং জনবল ১৩ জন।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের মোট পদ ২৮টি। কর্মরত ২২ জন। এর মধ্যে ৬ জন সংযুক্তিতে থাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন মাত্র ৮ জন। এখানে মাইনর অপারেশন ও প্লাস্টার করা হয়। জনবল সংকটে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট থাকলেও তিনি বর্তমানে ঢাকার নিটোরে সংযুক্তিতে রয়েছেন। প্যাথলজি চালু রয়েছে। এক্স-রে কক্ষ সংস্কারাধীন থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ। আল্ট্রাসনোগ্রাম চালু রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৭৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১২২ জন। আউটসোর্সিং জনবল ৫ জন।
বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের ১৪টি পদই পূরণ রয়েছে। এখানে সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অপারেশন নিয়মিত করা হয়। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট কর্মরত রয়েছেন। প্যাথলজি, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা সম্পূর্ণ চালু রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১১৩ জন। আউটসোর্সিং জনবল রয়েছেন ৭ জন।
ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৪৬-৪৮ জন রোগী ভর্তি থাকেন। মোট চিকিৎসকের পদ ৩৪টি। কর্মরত ১৩ জন। এ হাসপাতালে শুধু মাইনর অপারেশন করা হয়। অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। প্যাথলজি চালু থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম চালু থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে বন্ধ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৯২ জন। আউটসোর্সিং ২০ জন।
মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৮০-৯০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩১টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৩ জন। এ হাসপাতালে সিজারিয়ান, প্লাস্টার ও মাইনর অপারেশন নিয়মিত হয়। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট কর্মরত রয়েছেন। প্যাথলজি ও এক্স-রে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চালু থাকলেও ল্যাব ও রেডিওলজি টেকনোলজিস্টের পদ শূন্য।
অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৪ জন। নিয়মিত থাকেন ১২ জন। এ হাসপাতালে কোনো অপারেশন হয় না। প্যাথলজি চালু রয়েছে। এক্স-রে চালু থাকলেও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের প্রিন্টার ও ইউপিএস নষ্ট। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১০৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৬৫ জন। আউটসোর্সিং ১৬ জন।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বর্তমানে ৫০ শয্যা, তবে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিদিন ৬৫-৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৪৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২৭ জন। ৫ জন প্রেষণে রয়েছেন। এ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। প্যাথলজি বিভাগ এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম চালু রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৮০ জন। আউটসোর্সিং ১৫ জন।
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ২৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৭ জন এবং সবাই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এ হাসপাতালে নিয়মিত সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অপারেশন করা হয়। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট কর্মরত থাকলেও সপ্তাহে দুই দিন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেন। প্যাথলজি, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম চালু রয়েছে। রেডিওগ্রাফারের পদ শূন্য থাকলেও স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় এক্স-রে সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে কর্মরত ১০৫ জন। আউটসোর্সিং ২ জন।
অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ্ মো. মহিবুল্লাহ বলেছেন, ‘হাওর অধ্যুষিত এই উপজেলায় প্রাথমিক সব চিকিৎসাসহ মাইনর অপারেশন সেবা দেওয়া হলেও এখানে সিজারিয়ান অপারেশন হয় না। যদিও অপারেশন থিয়েটার সেটআপ আছে। এর কারণ চিকিৎসক সংকট। জরুরি কোনো গর্ভবতীকে চিকিৎসা দিতে পারি না। আর এখানে আবাসনের বড় সংকট থাকায় কোনো চিকিৎসক এসেও থাকতে চান না।’
হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান বললেন, ‘এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতব্যবস্থা ভালো থাকায় জেলার পাকুন্দিয়া, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নান্দাইল উপজেলার একাংশ রোগী এখানে চলে আসে। আর এ কারণে ৫০ শয্যার হাসপাতালে গড়ে ১০০ উপর রোগী ভর্তি থাকে। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা হলে আরও ভালো মানের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আকতার বললেন, ‘শুধু ডাক্তার সংকট নয়। হাসপাতালে অন্যান্য জনবল সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা মূলত সম্মিলিত টিমের মাধ্যমে দিতে হবে। বিশেষ করে ওয়ার্ডবয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ব্যাপক শূন্যতা রয়েছে। এই শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে স্বাস্থ্য সেবার সার্বিক উন্নয়ন হবে।’
জেলার সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল করিম বললেন, ‘৪৮তম বিসিএস ডাক্তার নিয়োগ হওয়ার পর থেকে চিকিৎসা সেবা দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য কিছু শূন্য পদ আছে, সেগুলো পূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি দ্রুত পূরণ হবে।’








