যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌতুকের জন্য পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গোপনাঙ্গ ও দুই পায়ে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত স্বামীর নাম রহমত আলী (২৮)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর গ্রামের কুরবান আলী বাড়ির বসু মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি।
পরিবার জানায়, প্রায় এক বছর আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিজয়নগরের পত্তন ইউনিয়নের ওই গৃহবধূর সঙ্গে রহমত আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করতেন রহমত আলী।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রহমত আলী তার স্ত্রীর কাছে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলেন। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে টাকা এনে দিতে পারবেন না বলে জানান ওই গৃহবধূ। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রহমত আলী তার স্ত্রীর গোপনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। একই সময় তার দুই পায়েও এসিড নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি করেছেন আহতের বাবা।
এসিড নিক্ষেপের পর গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার বিকালে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। ওইদিন রাত ১১টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
আহত গৃহবধূর বাবা অভিযোগ করেন, টাকার জন্য তার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। সর্বশেষ টাকা এনে দিতে না পারায় তার মেয়ের গোপনাঙ্গ ও দুই পায়ে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাসপাতাল সূত্রে একজন গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে এখনও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





