‘প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ওত পেতে আছে’

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম— সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ জিয়া চত্বর থেকে সোনাপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রশাসনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরে এখনো ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসররা’ অবস্থান করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গুটিকয়েক ঠিকাদারের গাফিলতি, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, পর্যাপ্ত আর্থিক সংগতি ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও একসঙ্গে একাধিক কাজ হাতে নেওয়া, আর তার সাথে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও তদারকির অভাব!’
তিনি বলেন, এসবের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। সড়কের নির্মাণকাজের কারণে মারাত্মক বিড়ম্বনা ও তীব্র যানজটে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
শাহাদাত হোসেন সেলিম তার পোস্টে গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, পানিসম্পদ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ওই সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ৭ দিনের মধ্যে রামগঞ্জের জিয়া চত্বর থেকে সোনাপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য। তিনি লেখেন, ‘আসলে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ওত পেতে বসে আছে। তারা সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে, আমাদের সব প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
শান্ত হোন, হুঁশে আসেন
১১ আগস্ট ২০২৬
তিনি আরও লেখেন, ‘সরকার পরিচালনায় এখন আরও কঠোর হওয়ার সময় এসেছে। পতিত স্বৈরাচারের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনকে গতিশীল করতে হবে। সর্বত্র সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’
এর আগে সোমবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে এই সড়কের কাজ শুরু ও দ্রুত এগিয়ে নিতে নিজের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।
তিনি জানান, সোনাপুর চৌরাস্তা থেকে জিয়া চত্বর পর্যন্ত সড়কের কাজের টেন্ডার হওয়ার পর ফাইলটি মন্ত্রণালয়ে আটকে ছিল। তিনি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এবং পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাইলটি ছাড়ানোর উদ্যোগ নেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি উত্থাপনের পর এক দিনের মধ্যেই ফাইলটি ছাড়া হয়।
সাংসদ বললেন, অনুমোদনের পরও ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ঠিকাদার খুঁজে এনে কাজ শুরু করান তিনি। রামগঞ্জে আসার পর নিজে তিন থেকে চারবার কাজটি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান। দ্রুত কাজ শেষ করতে উপজেলা নেতাদের ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও কাজটি তদারকের জন্য পাঠিয়েছেন তিনি।
এরপরও সড়কের কাজ ধীরগতিতে চলায় ঠিকাদারের সক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য।
এদিকে, সড়কটির নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নির্মাণকাজ চলায় যান চলাচলে ধীরগতি ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা





