বনজ ও ঔষধি উদ্ভিদে ৩৫০ পরিবারের কোটি টাকার বাণিজ্য

গাজীপুরের শ্রীপুরে বনজ ও ঔষধি উদ্ভিদ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে কয়েকশ পরিবার। বংশপরম্পরায় চলে আসা এ কাজে যুক্ত রয়েছেন নারী-পুরুষ উভয়েই। বাড়ির উঠান, সড়কের পাশ ও পতিত জমিতে ঔষধি উদ্ভিদ শুকিয়ে তারা সরবরাহ করছেন ভেষজ ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এ খাত ঘিরে বছরে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে।
উপজেলার বরমী ইউনিয়নের দরগাচালা ও ডালেশ্বর গ্রামে এ ব্যবসার বিস্তার বেশি। এসব গ্রামের বাসিন্দারা অর্জুনের ছাল, বাসকপাতা, নিমপাতা, নিমের ছাল, আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, লজ্জাবতী, শাপলাসহ বিভিন্ন ভেষজ উপাদান সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকারদের হাত ঘুরে এসব উপাদান পৌঁছে যায় ভেষজ ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।
দরগাচালা গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বংশপরম্পরায় এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বললেন, ‘আমাদের এলাকায় তিন শতাধিক ঔষধি উপাদান পাওয়া যায়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন এসব সংগ্রহ করে আমাদের কাছে সরবরাহ করেন। আমরা সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে পাইকারদের হাতে তুলে দিই। পরে পাইকাররা ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির কাছে বিক্রি করেন।’
সুমন মিয়ার ভাষ্য, এ কাজে নারীদের যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তারা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নিজেরাও আয় করছেন। এতে সংসারে সচ্ছলতা বাড়ছে। তার হিসাবে, দরগাচালা ও ডালেশ্বর গ্রামে ৩০০ থেকে ৩৫০টি পরিবার এ কাজের সঙ্গে যুক্ত।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানিয়েছেন, ঔষধি উদ্ভিদের পাতা ও ছাল বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের ঔষধি উদ্ভিদ চাষে উৎসাহিত করা, চারা বিতরণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।



