দাউদকান্দির ৪৮ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক

দাউদকান্দি সদর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪৯টি। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৪৮টিতে। পাশাপাশি খালি ৯৪টি সহকারী শিক্ষকের পদও। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণিতে পাঠদান করতে হচ্ছে একজন শিক্ষককে। কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে অনেক সময় বন্ধ থাকে ক্লাসই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের মোট ৯২২টি পদের মধ্যে পূরণ রয়েছে ৮২৮টি। শূন্য রয়েছে ৯৪টি পদ। প্রধান শিক্ষকের ৪৮টি পদ শূন্য থাকায় খালি রয়েছে মোট ১৪২টি শিক্ষক পদ।
সরেজমিন কয়েকটি বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, বহু প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজনকে। এতে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন না তারা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান।
এ ছাড়া সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অন্য শিক্ষকরা অনীহা প্রকাশ করছেন তার নির্দেশনা মানতে। এতে জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে সমন্বয়হীনতা। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমে।
কাউয়াদি (পশ্চিম) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহিনুর আক্তার জানিয়েছেন, ২০১৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই বিদ্যালয়টিতে। ২০১৯ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি পাঠদান করতে হওয়ায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে।
গাজীপুর (উত্তর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় কঠিন হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক রবিউল ইসলাম। তার দাবি, একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে পাঠ নিতে হওয়ায় কমে যাচ্ছে শিক্ষার মানও।
দাউদকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আহসান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পদোন্নতি কার্যক্রম। শূন্য পদের তালিকা এরইমধ্যে পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও।’





