লাল শাপলায় সেজেছে ‘নিশিকুঞ্জ’

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের জলাশয় ‘নিশিকুঞ্জ’। ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো স্বর্গ। পানির উপর ভেসে থাকা গাঢ় সবুজ পাতা আর টুকটুকে লাল শাপলার গালিচা যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত শিল্পকর্ম। সকালের নরম রোদ আর হিমেল বাতাসে দুলতে থাকা শাপলা আমন্ত্রণ জানায় পথচারীদের।
এখানে থেমে প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করেন পথচারীরা। কেউ মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় বন্দী করেন শাপলার সৌন্দর্য। আবার কেউ সিঁড়ি বেয়ে উঠে যান জলাশয়ের উপর নির্মিত বাঁশ-কাঠের টংয়ে। এখান থেকে আরও কাছ থেকে শাপলার মোহনীয়তা উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
তবে এই জলাশয়টি আগে এমন ছিল না। ২০১৬ সালের শুরুতে জলাশয়টি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন গ্রামের ৩৭ জন তরুণ-যুবক। আশুড়ার বিল থেকে শাপলার চারা এনে জলাশয়ে রোপণ করেন তারা। ধারাবাহিক পরিচর্যায় জলাশয়টি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে শাপলার বাগান। তিন শতাধিক শাপলার সমাহারে সজ্জিত এই জলাশয়ের নাম দেওয়া হয়েছে 'নিশিকুঞ্জ'।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছেন ওয়ারেস, মারজা, সেহেল, সামিউল, নাদিরুন ইসলাম, রিমন, রাফিউল, রাশিদুল, মনোয়ার, আবদুল কাদেরসহ আরও অনেকে। তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, আর বাকিরা চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী।
তারা জানান, শাপলার সৌন্দর্যকে রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই গ্রামকে সবাই চিনুক এটাই তাদের চাওয়া বলে জানালেন উদ্যোক্তারা
জলাশয়ের টংয়ে প্রতিদিন বিকেলে জড়ো হন এলাকার তরুণরা। গল্প, আড্ডা আর কখনো গানে মেতে ওঠেন তারা।
'নিশিকুঞ্জ' শুধু সৌন্দর্যের উৎস নয়, এটি গ্রামীণ পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরাও তরুণদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।





