প্রশ্ন স্কালোনির
আমরা নাকি সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছি?

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ডাগআউটে যখন সতীর্থদের নিয়ে উল্লাসে মাতোয়ারা আলবিসেলেস্তেরা, কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখে তখনো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল উৎকণ্ঠার ছাপ। বুক ধড়ফড়ানি যেন তখনো কমেনি। আফ্রিকার পুঁচকে দেশ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের এক রুদ্ধশ্বাস ও স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষে যখন শেষ ষোলোর টিকিট মিলল, তখন যেন বুক থেকে এক বিশাল পাথর নামল আর্জেন্টিনা কোচের।
ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডাগআউটে এটি ছিল তার শততম ম্যাচ। আর এই বিশেষ মাইলফলকের দিনে প্রায় খাদের কিনারা থেকে ঘুরে এসে জয় পাওয়ার পর অকপটে স্বীকার করলেন নিজের মনের ভেতরের সব ভয় ও স্বস্তি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে ১০০টি ম্যাচের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই এই ম্যাচটি আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। যেহেতু এটি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ এবং আমাদের বারবার ধাক্কা খেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছে, তাই একজন কোচ হিসেবে এই ম্যাচ আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমার এই ১০০তম ম্যাচে যদি আমরা হেরে বিদায় নিতাম, তবে সেটি হতো এক নির্মম ও দুঃখজনক পরিসংখ্যান। সত্যি বলতে, আজ হেরে গেলে আমি নির্ঘাত পাগল হয়ে যেতাম! তবে এটাই ফুটবল।’
বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন আর্জেন্টিনা তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে। এমনকী কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনেও এমন প্রশ্ন শুনতে হয়েছে স্কালোনিকে। সমালোচকদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হওয়ায় স্কালোনি বলেন, ‘আমাকে অনেকেই বলেছিল আমরা নাকি সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছি। এখন নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছেন বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। আমরা প্রচুর ভুগেছি, তবে দল হিসেবে জয়টা আমাদের প্রাপ্যই ছিল। আমাদের ছেলেরা কখনো হাল ছাড়ে না।’ আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করে ম্যাচে সমতা এনেছিলেন কেপ ভার্দের ২৩ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক সিডনি লোপেস কাবরাল। তার প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, ‘ওটা একটা অবিশ্বাস্য গোল ছিল। আমরা আগে থেকেই ভিডিওতে দেখেছিলাম ও বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ে শট নেয়। কিন্তু আপনি যতই বিশ্লেষণ করেন না কেন, ও যেভাবে বলটা জালে জড়াল—তা আটকানো এককথায় অসম্ভব ছিল।’
অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর কারণে এনসো ফের্নান্দেসের মতো ফুটবলাররা যখন পেশির টানে ভুগছিলেন, তখন দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন স্কালোনি, ‘১২০ মিনিট খেলার কারণে ফুটবলাররা ক্লান্ত ছিল। তবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের যখন ফুসফুসে বাতাসের ঘাটতি তৈরি হয়, তখন তারা হৃদয় দিয়ে খেলে। আজ ছেলেরা মাঠের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত চরিত্র দেখিয়েছে। যেসব ভুল হয়েছে, আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করব এবং শুধরে নেব।’ গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের ক্ষতের সাথে এই ম্যাচের তুলনা টেনে স্কালোনি বলেন, "সৌদি আরবের বিপক্ষের ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচের তফাত হলো, আজ দল ধাক্কা খাওয়ার পর দারুণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। আমাদের এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞতা। ছেলেরা জানে বিশ্বকাপে কীভাবে টিকে থাকতে হয়। সেদিন দল পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলেছিল, আজ কিন্তু তা হয়নি।’







