২২৯ শিক্ষার্থীর স্কুলে শিক্ষক মাত্র ২ জন

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১৪১টি পদ। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে একজন বা দুইজন শিক্ষককে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের ৭৭টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬৪টি পদ। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের মধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন ৪৩টিতে।
শিক্ষক সংকটের চিত্র সবচেয়ে প্রকট ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২২৯ শিক্ষার্থীর বিপরীতে সেখানে কর্মরত শিক্ষক মাত্র দুজন। বিদ্যালয়ের ছয়টি অনুমোদিত পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিতোষ চন্দ্র সূত্রধর বলেছেন, ‘মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে কিংবা প্রশিক্ষণ বা সভায় অংশ নিলে একজন শিক্ষককে পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
তিনি জানান, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। পরে কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বদলি ও চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় আরও বেড়েছে সংকট।
একই পরিস্থিতি বুল্লা ইউনিয়নের মাঝিশ্বাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে সেখানে বর্তমানে সরকারি শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। পাঠদান সচল রাখতে অন্য বিদ্যালয় থেকে দুইজন শিক্ষক প্রেষণে এনে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বদলি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও ছুটির কারণে চরম আকার ধারণ করেছে শিক্ষক সংকট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, শিক্ষক বদলির পর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মাধবপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি হেফজুর রহমান বলেছেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।’
সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ মহালদার বলেছেন, ‘একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এত বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকা উদ্বেগজনক।’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে পাঠদান চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে সংকট অনেকাংশে দূর হবে। বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।




