স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, হাতিয়া যুবদলের আহ্বায়ককে শোকজ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সংগঠনবিরোধী কাজ ও সহযোদ্ধাকে মাধরের অভিযোগে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা যুবদল আহ্বায়ককে শোকজ করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শোকজ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ‘ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন, সংগঠনের সহযোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নজরুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করা এবং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।’
নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস বললেন, ‘হাতিয়া উপজেলার একটি সুপারমার্কেটে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নজরুল ইসলাম ওরফে আদনানের ভাইয়ের সঙ্গে পৌরসভা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকাররম বিল্লাহ শাহাদাতের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য সালিশ বৈঠকে বসলে পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নজরুলের নেতৃত্বে সেখানে হট্টগোল তৈরি হয়।’
ইসমাইলের ভাষ্য, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান সংঘাত ঠেকাতে। সেখানে পরিস্থিতি প্রতিহত করতে গিয়ে নজরুলের সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কি হয়। সম্পূর্ণ ঘটনাকে বিকৃত করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চরাঞ্চলে দস্যুবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক ও একসঙ্গে বসে খাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দখলদারি রোধে সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সেখানে কাজ করেছেন।’
কোনো অপকর্মের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় নির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব দেবেন বলে জানান।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর হাতিয়া উপজেলা সুপারমার্কেটে একটি সালিশি বৈঠকে হট্টগোলকে কেন্দ্র করে পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ওরফে ইলিয়াস ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে নজরুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করার অভিযোগ করা হয়। পরে এ বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।



