পূর্বপুরুষের ভিটা রক্ষায় শ্রীপুরে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

ভিটা রক্ষায় শ্রীপুরে মানববন্ধন
গাজীপুরের শ্রীপুরে পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে ‘ভূমিদস্যুদের’ বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন মন্ডা বাপের ভিটার বাসিন্দারা। মামলা ও হয়রানি বন্ধ, ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং ভুক্তভোগীদের জমি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া পুরাতন বাজার (বেতজুরী) এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ডা বাপের ভিটার শতাধিক পরিবারের চার শতাধিক নারী-পুরুষ, স্থানীয় বাসিন্দা, জমির মালিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম, ভুক্তভোগী শ্রীপুর পৌর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, শ্রীপুর পৌর যুবদলের সদস্য ইব্রাহিম পালোয়ান, হেলেনা আক্তার, রোকসানা আক্তার, মার্জিয়া আক্তার ও আনোয়ারা বেগমসহ অন্যরা।
খোরশেদ আলম বলেছেন, ‘জন্মের পর থেকে শুনে আসছি এটা মন্ডা বাপের ভিটা। হঠাৎ শুনি কর্নেল (অব.) রেজা নামে এক ব্যক্তি ওই ভিটা (জমি) বন্দোবস্ত নিয়ে দখল করতে চাচ্ছে। প্রয়াত কর্নেল রেজা ও প্রয়াত শিক্ষক আব্দুল হাই গংদের মাঝে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মাঝখানে অনেকদিন বন্ধ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবার গত এক বছর যাবত শুনছি ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তি আম-মোক্তার দলিল মূলে ওই জমির (মন্ডা বাপের ভিটা) মালিকানা দাবি করছে। তিনি লোকবল নিয়ে পেশীশক্তি ব্যবহার করে দখল নিতে না পেরে আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শ্রীপুর পৌর ভূমি অফিসকে আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত।’
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, ১৯৪৬ সাল থেকে তাদের পূর্বপুরুষেরা জমি কিনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে জমির মালিকানা ও দখলের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী ওমর ফারুক তাদের বাপ-দাদার ভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। বিভিন্নভাবে তাদের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এরশাদ সরকারের আমলে কর্নেল (অব.) রেজাউল করিম কিছু জমি বন্দোবস্ত নেন। পরে তার উত্তরাধিকারীদের পক্ষে ওমর ফারুককে আম-মোক্তার বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করা হয়। তাদের দাবি, কর্নেল (অব.) রেজাউল করিমের বন্দোবস্ত করা জমি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে তুলা গবেষণা খামারের ভেতরে। কিন্তু সরকারি নকশা বা স্কেচ ম্যাপ পরিবর্তনের মাধ্যমে মহাসড়কের পশ্চিম পাশের মন্ডা বাপের ভিটার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। আবার কখনো আদালতে সাজানো ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
তারা জানান, ওই এলাকায় শতাধিক পরিবারের বসবাসের পাশাপাশি কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে। আমরা আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না।
এ সময় ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, পেশীশক্তিমুক্ত সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া এবং হুমকি বন্ধের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





