নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে বাড়ল ইলিশের দাম

চাঁদপুরে বেড়েছে ইলিশের দাম। ছবি: আগামীর সময়
নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে দাম বেড়েছে ইলিশের। প্রতি কেজি ইলিশে দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছঘাটে এসে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।
আগামী ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। একই সময়ে বড়স্টেশন মাছঘাটেও বন্ধ থাকবে ইলিশের বেচাকেনা।
আজ সোমবার সকালে বড়স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এক সপ্তাহ আগেও একই আকারের ইলিশের দাম ছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
ব্যবসায়ী নবীর হোসেন জানিয়েছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে ইলিশের। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও। ইলিশের দাম বাড়ুক, এটা ব্যবসায়ীদেরও কাম্য নয়। দাম কম থাকলে ক্রেতা বেশি আসে এবং বিক্রিও ভালো হয়। আগামী দুদিনে ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়লে দামও কমতে পারে।
কুমিল্লা থেকে মাছ কিনতে আসা আসমা বেগম জানালেন, ১০ থেকে ১২ দিন আগেও তিনি চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট থেকে ইলিশ কিনেছেন। তখন যে দামে মাছ কিনেছিলেন, এখন একই ধরনের ইলিশের দাম কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।
সকাল থেকে মাছঘাটে অপেক্ষা করছেন। দাম কিছুটা কমলে ইলিশ কিনবেন। নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে দাম কমবে ভেবেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে উল্টো দাম বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ইলিশ কেনা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেছেন, বর্তমানে মৌসুমের শেষ পর্যায়ের ইলিশ বেচাকেনা চলছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে। ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। এ সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ঘাটেও ইলিশের বেচাকেনা থাকবে না।
তিনি আরও জানালেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ ধরা শুরু হলে আবার ঘাটে ইলিশের বেচাকেনা শুরু হবে। নিষেধাজ্ঞার আগে বাকি দুদিনে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে সরবরাহ বাড়লে ইলিশের দাম কিছুটা কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।




