বানিয়াচংয়ে সবজি চাষে বিপ্লব

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় বিপ্লব ঘটেছে সবজি চাষে। এই উপজেলায় ১ হাজার ৪২৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।
এ খাত থেকে লাভবান হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে সাধারণ চাষি থেকে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন শতাধিক কৃষক। মাঠ পরিদর্শনেও এই তথ্যের সত্যতা মিলেছে।
সম্প্রতি উপজেলার ১ নম্বর বানিয়াচং ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ হয়েছে বিস্তীর্ণ জমিতে। কোথাও কৃষকরা ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন, কোথাও সবজি সংগ্রহ করে ক্যারেটে ভরছেন। আবার কেউ বাজারজাতের জন্য গাড়িতে সবজি তুলছেন।
বাগ মহল্লার সালাউদ্দিন সালেক এমনই একজন সফল সবজি চাষি ও উদ্যোক্তা। তিনি জানান, একসময় বেকার ছিলেন। কর্মসংস্থানের আশায় ইরান গিয়েছিলেন। সাত বছর ইরানে থাকার পর দেশে ফিরে সবজির চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় সাত বছর ধরে সফলভাবে সবজি চাষ করে আসছেন তিনি।
সালাউদ্দিন সালেকের ভাষ্য, দুই একর জমিতে সবজি চাষ করে তিনি বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় করেন। কৃষি অফিস থেকে জৈবসার উৎপাদনের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে একটি শেড। সরবরাহ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় উপকরণও।
বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি ক্ষেতে রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করেন ফেরোমন ফাঁদ ও আঠালো ফাঁদ। এ পদ্ধতিও কৃষি বিভাগের পরামর্শে করছেন বলে জানান তিনি।
নাগেরখানা মহল্লার পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল ইসলাম এবং চতুরঙ্গরায়েরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেছেন, সবজি চাষ করে কয়েক বছরের মধ্যে স্বাবলম্বী হয়েছেন সালাউদ্দিন সালেকের মতো আরও অনেক কৃষক।
বানিয়াচং উপজেলার সমাজকর্মী সৈয়দ মিজান উদ্দিন পলাশ জানালেন, পাশের মজলিপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী সবজি চাষের আয় দিয়ে এক সন্তানকে এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং আরেক সন্তানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক বলেছেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে উপজেলার শতাধিক কৃষক ১ হাজার ৪২৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। তারা কেবল স্বাবলম্বীই হননি, অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
তিনি জানালেন, কৃষকরা এখন অন্য মৌসুমের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও সবজি চাষ করছেন। সবজি চাষে বানিয়াচংয়ে একধরনের কৃষিবিপ্লব ঘটেছে।





