সরিষাবাড়ী
নিষিদ্ধ আ.লীগ সভাপতির ভবনে থানা, পুনর্বাসনের অভিযোগ স্থানীয়দের

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় উপজেলা সভাপতির একটি ভবনে চালানো হচ্ছে থানার দাপ্তরিক কার্যক্রম।
এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের এক নেতার ভবন ভাড়া নিয়ে প্রশাসন দলটির নেতাদের সুযোগ করে দিচ্ছে ‘পুনর্বাসনের’।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাড়া নেওয়া ভবনটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় উপজেলা সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বাদশার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শহরে আরও অনেক ভবন থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের একজন নেতার ভবনই থানার জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন ওই নেতা। তাই তার ভবনে থানার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে প্রশ্ন।
থানা সূত্র জানায়, নতুন থানা ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর জন্য পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ কারণে উপজেলা মডেল মসজিদের পাশে ভাড়া নেওয়া হয়েছে তিনতলা একটি ভবন দুই বছরের জন্য। এর মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ওই ভবনে শুরু হয়েছে থানার কার্যক্রম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, এত আন্দোলন ও প্রাণহানির পরও দেশে আওয়ামী লীগের দোসররা বিভিন্ন দপ্তরে রয়েছে সক্রিয়। তারাই দলটির নেতা-কর্মীদের রক্ষা ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তা না হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ভবনে থানার কার্যক্রম চালানোর প্রশ্নই আসে না।
স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম ভিপি শহীদের দাবি, আতাত করেই সব চলছে। নির্বাচনের আগ থেকেই শুরু হয়েছে এই সমঝোতা। একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে থানা পরিচালনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। এসব দেখে মনে হয় প্রশাসন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব নিয়েছে পুনর্বাসনের।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মো. লুৎফর রহমান বললেন, প্রশাসন যদি কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বা অন্যায়কে উৎসাহিত করে, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বললেন, পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণে আরও সময় লাগবে। তাই আপাতত শহরের প্রধান সড়কে মডেল মসজিদের পাশের ভবনে উঠেছি। ভবনটি আগে আওয়ামী লীগের নেতা ছানোয়ার হোসেন বাদশার ছিল। পুরো তিনতলা ভবন নেওয়া হয়েছে ভাড়া।
আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে থানার কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বললেন, আমি এভাবে বলতে পারব না। যারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা হয়তো অন্য কোনো ভবন পাননি। নিরুপায় হয়েই করা হয়েছে এটা।
জেলা বিএনপির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সাংসদ ফরিদুল কবির তালুকদার বলছিলেন, এটি সাময়িক ব্যবস্থা। নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত থানা সেখানে থাকবে। অন্য কোনো উপযুক্ত ভবন পাওয়া গেলে তারা সরে যাবে। বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, এখানে রাজনৈতিকভাবে দেখার কিছু নেই।
জামালপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন জানালেন, সরিষাবাড়িতে দ্রুত থানা ভবন নির্মাণ করা হবে। অন্য কোথাও উপযুক্ত ভবন না পাওয়ায় অস্থায়ীভাবে সেখানে নেওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলেই থানা নিজস্ব জায়গায় চলে যাবে। মানুষের সেবায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে কারণেই নেওয়া হয়েছে এই ব্যবস্থা।
তবে আওয়ামীলীগ সভাপতির ভবনে থানা ভাড়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।






