কুয়াশায় ঢাকা তেঁতুলিয়া, কাঞ্চনজঙ্ঘার অপেক্ষায় পর্যটকরা

ছবি: আগামীর সময়
শরতের আগমনী আবহ ও সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের সর্বউত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। হিমালয়কন্যা খ্যাত এ জনপদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। তবে প্রকৃতির মুগ্ধতার পাশাপাশি অনেকের অপেক্ষা ছিল হিমালয়ের শুভ্র পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরে তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো টিলা ও সীমান্তঘেঁষা মহানন্দা নদীর তীরে দেখা যায় পর্যটকদের ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ দলবেঁধে ছুটে এসেছেন ভোরের নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করতে।
তবে ঘন কুয়াশা ও হালকা মেঘে উত্তর আকাশ ঢাকা থাকায় এদিন কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলেনি। টানা দুই দিন পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান না হওয়ায় অনেক পর্যটকের মধ্যে দেখা দিয়েছে কিছুটা হতাশা।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রকৃতি অবশ্য নিরাশ করছে না দর্শনার্থীদের। কুয়াশাভেজা সকাল, শিশিরসিক্ত ঘাস, মহানন্দা নদীর শান্ত জলধারা, সাদা কাশফুল আর সবুজে ঘেরা চা বাগানের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাড়তে শুরু করেছে মানুষের আনাগোনা। সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের উপস্থিতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ডাকবাংলো, মহানন্দার তীর, চা বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। একই সঙ্গে বেড়েছে হোটেল, রিসোর্ট ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যস্ততাও।
স্থানীয়রা জানান, ছুটির দিনগুলোয় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। অনেক সময় হোটেল-রিসোর্টে কক্ষ না পেয়ে পর্যটকদের কেউ কেউ খোলা জায়গায় তাঁবু টানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
রংপুর থেকে আসা পর্যটক প্রান্ত বলেন, প্রচুর কুয়াশার কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পারিনি। তবে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চা-বাগান বেশ ভালো লেগেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা ও হালকা মেঘের কারণে উত্তর আকাশ ঢাকা থাকায় বর্তমানে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে না।




