রামু উপজেলা
একটি সেতুর অপেক্ষায় ৬০ হাজার মানুষ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বাঁকখালী নদীর ওপর একটি সেতু। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘কাউয়ারখোপ-মনিরঝিল সেতু’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে দুই জেলার মানুষের বহু বছরের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর থেকে বাঁকখালী নদী দুই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম বড় বাধা। নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। চিকিৎসাসেবা পেতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ।
২০২১ সালের ২২ আগস্ট সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেসময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে। নকশা প্রণয়ন, হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা, সয়েল টেস্ট এবং ডিজিটাল সার্ভের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
স্থানীয় শিক্ষক মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেছেন, ‘প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী নৌকায় করে নদী পারাপার হয়। সেতু হলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। পর্যটন খাতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’
সেতু নেই তাই সাঁকো
১০ জুন ২০২৬
তরুণ ব্যবসায়ী তারেক আল আজিজ বলেছেন, ‘প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সেতু নির্মাণ হলে এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।’
স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি যোগাযোগের একমাত্র ভরসা একটি সাঁকো। বর্ষা ও জোয়ারে সেটিও ভেঙে যায়। একটি স্থায়ী সেতু আমাদের বহু দিনের স্বপ্ন।’
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেছেন, ‘সেতুর বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। প্রায় তিন মাস আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে দ্রুত সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পটি আবার অনুমোদন দিতে হবে। দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগও নিতে হবে। তাদের বিশ্বাস, কাউয়ারখোপ-মনিরঝিল সেতু নির্মিত হলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির মধ্যে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি অবহেলিত জনপদগুলো উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হবে।






