চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা
সেতু নেই তাই সাঁকো

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদা ও নতিপোতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুলালনগর-নতিপোতা গ্রামের ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ এক বাঁশের সাঁকো। এর ওপর দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চার-পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সেতু দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করা গেলেও পণ্যবাহী বা অন্য কোনো যানবাহন পার করা সম্ভব হয় না। ফলে কৃষিপণ্য বা অসুস্থ রোগী নিয়ে তাদের হেমায়েতপুর-চারুলিয়া হয়ে অতিরিক্ত চার-পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।
দুলালনগর গ্রামের রমজান আলী ওরফে টিটনের (৪৫) ভাষ্য, এখানে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের হলেও, তা বাস্তবায়ন হয়নি আজও। চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা কিংবা মেহেরপুরে যেতে হলে এ ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
এদিকে, নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সেতুটি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইজারাদার নাজমুল হোসেন জানান, সাঁকোটি তৈরিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং প্রতি বছর সংস্কারে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অথচ হাজার হাজার মানুষ পারাপার হলেও ঠিকমতো টোল না দেওয়ায় সেই খরচ ওঠে না। খরচের তুলনায় আয় না থাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এবারও সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যেকোনো সময় স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে পারে।
দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বললেন, সাঁকোটির বর্তমান অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




