উন্নয়নের নামে দখলের পাঁয়তারা হলে ছাড় দেওয়া হবে না: বাপা

বাপার অফিসে মতবিনিময় সভা
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) কক্সবাজারের সুগন্ধা-কলাতলী বালিয়াড়িতে অবৈধ সড়ক নির্মাণকাজ স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। একই সঙ্গে জেলার পাহাড়, নদী, সৈকত ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাপার নিজস্ব অফিস মিলনায়তনে পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
বাপা কক্সবাজার অঞ্চলের সভাপতি জাফর আলমের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন বাপা শহর শাখার সভাপতি ইরফানুল হাসান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জাকির হোসেন বলেছেন, ‘কক্সবাজারের নৈসর্গিক পরিবেশ সুরক্ষায় বাপার সারাদেশের সদস্যরা স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের পাশে রয়েছেন। অবৈধভাবে সৈকতের বালিয়াড়িতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো দখলের পাঁয়তারা চালানো হলে ছাড় দেওয়া হবে না।’
প্রধান বক্তা বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেছেন, ‘কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঢাল ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সমৃদ্ধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রথম দায়িত্ব স্থানীয় মানুষেরই। নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ সোচ্চার থাকলে কোনো অবৈধ দখলদার পরিবেশ ও বালিয়াড়ি নষ্ট করার দুঃসাহস পাবে না।’
মতবিনিময় সভায় সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং নো-ডেভেলপমেন্ট জোনে কক্সবাজার পৌরসভার সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের ওপর হাইকোর্ট আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগও ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন। কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া সৈকতের বুকে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণকে বেআইনি এবং বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, সৈকতের বালিয়াড়ি শুধু পর্যটনের সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই সেখানে পাকা অবকাঠামো ও সড়ক নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
সভায় বাপা কক্সবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, সহসভাপতি স ম ইকবাল বাহার, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক শহর সভাপতি কফিল উদ্দিন, গ্রীন ভয়েসের জেলা সভাপতি শাহেদুল ইসলাম, রামু উপজেলা বাপার সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ জুয়েল ও বাপা নেতা মো. রুহুল কাদের শিলুসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মতামত দেন।
সভায় বক্তারা সুগন্ধা-কলাতলী বালিয়াড়িতে পাকা অবকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ স্থায়ীভাবে বন্ধের পাশাপাশি পাহাড় কাটা, নির্বিচারে গাছ নিধন এবং নদী ও সৈকত দূষণ রোধে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।



