ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় চলছে হাজারো মানুষের পারাপার

মরিচকুঁড়ি খালের ওপর নির্মিত বাশেঁর সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করে হাজারো মানুষ। ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। আধুনিকায়নের এই সময়েও খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বাশারচালা ও কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি গ্রামের মরিচকুঁড়ি খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের উত্তর পাশে মরিচকুঁড়ি ও জিতাশ্বরী গ্রাম এবং দক্ষিণ পাশে সাড়াশিয়া, বাশারচালা ও নয়ারচালা গ্রাম অবস্থিত। পশ্চিমে মহানন্দপুর এবং পূর্বে সাড়াশিয়া গ্রাম। প্রতিদিন এসব গ্রামের মানুষ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করেন।
সাঁকোর আশপাশে রয়েছে মহানন্দপুর বিজয় স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, মহানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিতাশ্বরী দাখিল মাদ্রাসা, জিতাশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাড়াশিয়া বাশারচালা উচ্চ বিদ্যালয় ও সাড়াশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুল ও মাদ্রাসায় যায়।
এ ছাড়া মহানন্দপুর ও বাশারচালা বাজারে প্রতি সোম ও বুধবার সাপ্তাহিক হাট বসে। বাজারে যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্যও দুই গ্রামের মানুষকে নির্ভর করতে হয় এই সাঁকোর ওপরই। বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সাঁকো থেকে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কাকড়াজান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আমীর হামজা সিকদার বলেছেন, ‘দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আমি নিজ উদ্যোগে সাময়িক চলাচলের জন্য খালের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি।’
মহানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া বলেছেন, ‘আমি কয়েকবার এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পারাপার করেছি এবং শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছি। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।





