তারাগঞ্জ
আশ্রয়ণের ঘর নিয়ে দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের তারাগঞ্জে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ ঘর নিয়ে এখন দুর্ভোগে পড়েছেন উপকারভোগীরা। নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে নির্মিত এসব ঘর জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক ঘরই এখন বসবাসের একেবারেই অনুপযোগী। কোথাও দেয়ালে ধরেছে ফাটল, কোথাও ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে পানি। ভেঙে পড়েছে দরজা-জানালা, নষ্ট হয়ে গেছে শৌচাগারও। ফলে স্বপ্নের ঘর এখন বহু পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের কারণ। জরাজীর্ণ এসব ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার ফরিদাবাদ, শ্যামগঞ্জ ফাঁসির ডাঙ্গা, শ্যামগঞ্জ কাঁচারীপাড়া, রহিমাপুর, ঘনিরামপুর আদর্শপাড়া, উজিয়াল,পদ্মপুকুর, ধোলাই ঘাট, খিয়ারডাঙ্গা, চিলাপাক আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরের অনেকগুলোর অবস্থা একেবারে বেহাল ও বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এসব ঘরে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ঘনিরামপুর আদর্শপাড়ার আশ্রয়ণের বাসিন্দা মল্লিকা বেগম জানান, 'ঘর পেয়ে খুব আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই সমস্যার শুরু। দেয়ালে ফাঁটল ধরেছে, দরজা ভালোভাবে বন্ধ হয় না, ছাদ থেকে পানি পড়ে। রাতে বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না।'
আর এক উপকারভোগী ইসমত আরা বেগম বলেন, 'আমার তিনটা ছোট বাচ্চা আছে। এই ভাঙাচোরা ঘরে থেকে তাদের অসুস্থতা বাড়ছে। তবুও নিরুপায় হয়ে এখানেই থাকি।'
রহিমাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকা ভ্যান চালক ওমর আলী আক্ষেপ করে বলেন, 'টিনের চালের জোরাই খুলে গেছে কয়েকবার ইউএনও অফিসে গিয়ে বলে আসছি। কিন্তু ওই পর্যন্তই শেষ। এখনো বৃষ্টির রাতে জোরাই দিয়ে পানি পড়ে।'
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের প্রতিটিতে শৌচাগার থাকলেও সেগুলোর প্রায় সবকটিই বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনেক শৌচাগারে পানির সংযোগ নেই। কিছু ঘরে পাইপ লাইনই বসানো হয়নি। আবার কোথাও প্যান ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।
এ কারণে উপকারভোগীরা বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা মাঠে, ঝোঁপঝাড়ে স্যানিটেশনের কাজ সারছেন। এতে নারীদের জন্য বিশেষত রাতে নিরাপত্তাহীনতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
হাঁড়িয়ারকুঠি খিয়ারডাঙ্গার আশ্রয়ণের বাসিন্দা মাজেদা খাতুন জানান, 'আমার বাড়ির ল্যাট্রিন ভরে গেছে। এ অবস্থায় কষ্ট করে আছি।'
স্থানীয়দের দাবি, ঘরগুলো নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা কম খরচে নিম্নমাণের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছেন। অনেক ঘরে ২/৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সিমেন্টের পরিমাণ ছিল কম, এবং কাঠামোর নকশাও দুর্বল ছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যথাযথ তদারকি, অর্থ আত্মসাৎ এর কারণেও এই দুরবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। একাধিক গ্রামবাসী বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরে কেউ আর এসে ঘরগুলো কেমন আছে তা দেখতে আসেনি।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, 'এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আমাকে জানায়নি। এসব ঘরের বিষয়ে সরকারি কোনও বরাদ্দও নেই।'



