মেহেরপুর
দিনে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, দুর্ভোগে অতিষ্ঠ মানুষ

একদিকে রোদের তীব্রতা ও ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। শহরে কিছুটা বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামে দিন-রাত মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না বিদ্যুৎ। গরমে অতিষ্ঠ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে প্রতিদিন। এতে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কলকারখানা।
ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষিজমিতে সেচ দিতে কৃষকরা পড়ছেন বিপাকে। কবে বিদ্যুতের এমন দুর্ভোগ কাটবে তা নিশ্চিত নয়, বলে জানায় পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
মেহেরপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের তথ্য মতে, মেহেরপুরের তিনটি উপজেলায় মোট গ্রাহক ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৫৯। এদের মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮৮ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৯ হাজার ৭০২, শিল্প সংযোগ ২ হাজার ১৭৫, সেচ পাম্প রয়েছে ৩ হাজার ৪২৩ জন। অন্যান্য গ্রাহক রয়েছে ২ হাজার ৮৭১ টি।
এখানে লোডশেডিংমুক্ত নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। অফ পিক আওয়ার রাত ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৫৫ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও পাপ্ত বিদ্যুৎ ৪০ মেগাওয়াট। এখানে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ১৫ মেগাওয়াট।
পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ৬২ মেগাওয়াট, প্রাপ্তি ৪১ মেগাওয়াট। ঘাটতি দেখানো হয়েছে ২১ মেগাওয়াট। অফ পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২৭% এবং পিক আওয়ারে ঘাটতি ৩০ থেকে ৩৪%।
জেলার গ্রাহকদের অভিযোগ, দাপ্তরিকভাবে বিদ্যুতের যে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে তার চিত্র অনেকটা ভিন্ন। সারাদিনে ৫/৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহক সাধারণ। গ্রাম ও শহরের মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহে রয়েছে বিস্তর বৈষম্য। শহরের তুলনায় গ্রামে চার ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝাওবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ধান ও পাটের জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৩/৪ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে।
অন্যদিকে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ার টিবিলে বসে কষ্ট পাচ্ছেন পরীক্ষার্থী মিলা আক্তার।
ভাটপাড়া গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী নুসরাত জামান বললেন, দিনে সমস্যা না হলেও সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক না হলে সিলেবাস শেষ হবে না।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলায় চারটি সরকারি হাসপাতাল। বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে প্রায় অর্ধশত। কোনো হাসপাতালে নেই জেনারেটর ব্যবস্থা। ফলে হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়ছেন কষ্টে।
মেহেরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষ আগামীর সময়কে বললেন, মেহেরপুরে প্রয়োজন মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। প্রতিদিন গড়ে ৩০/৩৪% লোডশেডিং হচ্ছে। কবে এই সমস্যার সমাধান হবে তা বলতে পারছি না।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী জানালেন, মেহেরপুরের সব এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সচল রয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সমস্যা ঠিক হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।




