কুষ্টিয়ায় বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, অভিযোগ আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নাশকতা মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপির ৫ থেকে ৬ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি দলটির নেতাকর্মীদের। পরে এর জেরে আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর এবং তার পাটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাধীন পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলকোলা গ্রামে ঘটে এ সংঘাতের ঘটনা।
বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় নলকোলা গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা বসে মুড়ি ও চানাচুর খাচ্ছিলেন। এ সময় পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং সেখানে থাকা নেতাকর্মীদের মারধর করেন। এতে বিএনপির ৫ থেকে ৬ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি নাশকতা মামলা করা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ একাধিক ব্যক্তি আসামি ছিলেন। মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন তারা। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পরপরই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালান বিএনপি কার্যালয়ে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন এবং তার পাটের গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘খবর পেয়েই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো ঘটনার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।




