স্বপ্নপুরীতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত মাছ

ফাইল ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর পাড় ঘেঁষে সারি সারি পুকুর। কোথাও রেণু, কোথাও পোনা, আবার কোথাও পানির ওপর ভেসে উঠছে বড় বড় মাছ। চর সুহিলপুরের এসব পুকুর নিয়েই গড়ে উঠেছে স্বপ্নপুরী ফিশারি। নিজস্ব পুকুরে রেণু উৎপাদন আর নিজেদের তৈরি খাবারে নিরাপদ মাছ উৎপাদন করছেন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আমিন।
২০১৮ সালে প্রায় ৫৩ বিঘা জমিতে পাঁচটি পুকুর নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন মোহাম্মদ আমিন। শুরু থেকেই উৎপাদন ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। পাঁচটি পুকুরের মধ্যে দুটি ছোট পুকুরে রেণু থেকে পোনা তৈরি করা হয়। প্রায় দুই মাসে পোনা তিন থেকে চার ইঞ্চি হলে সেগুলো স্থানান্তর করা হয় বড় পুকুরে।
তবে স্বপ্নপুরী ফিশারির আলাদা বৈশিষ্ট্য শুধু নিজস্ব পোনা উৎপাদনে নয়, মাছের খাবার তৈরিতেও। বাজারের প্রচলিত ফিডের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে ভুট্টা, খৈল, আটা, চালের গুঁড়া, ধানের কুড়া, সয়াবিনের গুঁড়া, শুঁটকির গুঁড়াসহ বিভিন্ন উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে মেশিনে খাবার তৈরি করা হয়। উদ্যোক্তার দাবি, এভাবে ক্ষতিকর উপাদান এড়িয়ে বিষমুক্ত মাছ উৎপাদন করছেন তারা।
নিজেদের ব্যবস্থাপনায় রেণু থেকে পোনা এবং পোনা থেকে বড় মাছ— পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস। প্রতি কিস্তিতে প্রায় ৫০ হাজার পোনা ছাড়া হয়। পরিচর্যার পর চার থেকে পাঁচ মাসে ৪০ হাজারের বেশি মাছ বিক্রির উপযোগী হয়। একেকটি কিস্তিতে উৎপাদন হয় প্রায় ৬০ টন মাছ। পাঙাশ ও তেলাপিয়ার পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্ফ, বাটকি, সরপুঁটি, আইড়সহ বিভিন্ন মাছও চাষ করা হচ্ছে।




