ঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষে বাড়ছে কৃষকের আয়

ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মাছের ঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষ করে বাড়তি আয়ের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে লাউ, করলা, শিম, উচ্ছে, বেগুন, মরিচ, খিরা ও পটলসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাছের ঘেরের চারপাশে পরিকল্পিতভাবে চাষ করা হচ্ছে সবজি। বাঁশ ও জালের সাহায্যে মাচা তৈরি করে সেখানে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙে ও অন্যান্য লতাজাতীয় সবজি উৎপাদন করছেন অনেক চাষি। পানির ওপর ঝুলে থাকা এসব সবজি যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক।
ঘেরের ভেড়িতে বেগুন, মরিচ, খিরা ও পটলের পাশাপাশি লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, মূলা শাকসহ চাষ হচ্ছে বাঁধাকপিও। ফলে উপজেলার সবজির চাহিদার একটি বাড়তি অংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে স্থানীয়ভাবেই।
একাধিক মৎস্যচাষি ও ঘের মালিক জানিয়েছেন, মাছের পাশাপাশি সবজি চাষ করায় আয় বেড়েছে এবং কমেছে উৎপাদন ঝুঁকিও। ঘেরে নিয়মিত লোকজন থাকার কারণে সহজ হয় সবজির পরিচর্যাও। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে অতিরিক্ত লাভ। এ কারণে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে ঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সবজি। এর প্রায় ৭৫ হেক্টর জমি মাছের ঘেরের ভেড়িতে অবস্থিত।
নারায়ণপুর গ্রামের মৎস্যচাষি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, আগে শুধু মাছ চাষ করতেন তিনি। বর্তমানে বেগুন, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙে, খিরা, উচ্ছে ও লাউ চাষ করছেন ঘেরের ভেড়িতে। এতে মাছের পাশাপাশি ভালো আয় হচ্ছে সবজি বিক্রি করেও।
তার মতে, সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও কম লাগে ঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে একই জমিতে মাছ ও সবজি চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি নিশ্চিত হচ্ছে পুষ্টি নিরাপত্তাও।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জিয়াউল হক বলেছেন, দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষ। এতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকরা।
তার ভাষ্য, উৎপাদন ঝুঁকি কমে যায় মাছ ও সবজি একসঙ্গে চাষ করলে। কোনো একটি খাতে ক্ষতি হলেও অন্য খাত থেকে আয় করে লাভবান হতে পারেন কৃষকরা। এ কারণেই এই পদ্ধতিকে অধিক নিরাপদ ও লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেক কৃষক।





