‘নৌমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবতাবিবর্জিত’- ৫ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা ‘স্থবির পর্যায়ে’ ছিল নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম।
একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু এ কথা বলেন।
তারা জানান, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও দেশীয় দক্ষ জনশক্তির দীর্ঘদিনের শ্রম ও অভিজ্ঞতায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সচল রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রের সতর্ক সংকেতের মধ্যেও বন্দরকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘স্থবিরতা’ বলা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কমিটির নেতারা বলেছেন, বন্দরের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। বিদেশি প্রযুক্তি বা কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার বিরোধিতা নেই। তবে এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার আগে জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও রাজস্বের ওপর প্রভাব প্রকাশ্যে মূল্যায়ন করতে হবে।
তারা বললেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বিসর্জন দিয়ে নয়’ দেশীয় জনশক্তিকে সঙ্গে নিয়েই বন্দরের উন্নয়ন করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল এবং বন্দরের জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।




