বগুড়ায় জৈব সারের বাজার ১৭২ কোটি টাকার

গোবর, গাছের পাতা, খড়কুটো ও গৃহস্থালির বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে জৈব সার। একসময় এসব উপাদানকে ফেলে দেওয়া হলেও এখন তা বগুড়ার কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত অর্থবছরে জেলায় উৎপাদিত হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৭ টন জৈব সার। যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৭২ কোটি টাকা। এ খাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৭০০ মানুষের।
জৈব সার উৎপাদন করে এই খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া এলাকার বিরতি খাতুন ও রাশেদুল ইসলাম রূপম দম্পতি। পারিবারিক নার্সারির প্রয়োজনে আট বছর আগে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন সার উৎপাদন। এখন নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে প্রতি মাসে অন্তত ৫ লাখ টাকার সার বিক্রি করছেন তারা। তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন আরও ২০ জন।
বিরতি খাতুনের ভাষায়, নার্সারিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার থেকে মাটির ক্ষতির বিষয়টি বুঝতে পেরে জৈব সারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তারা। বাসাবাড়ির সবজির খোসা, গাছের পাতা, খড়কুটো ও মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে সার তৈরির কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট— দুই ধরনের সার উৎপাদন করছেন তারা।
বগুড়ায় জৈব সার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত আরেক উদ্যোক্তা শেরপুরের সুরাইয়া ফারহানা রেশমা। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে এখন তার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি টাকার বেশি। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ জনের। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৭০০ উদ্যোক্তা তার কাছ থেকে জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি বগুড়ায় জৈব সার উৎপাদনে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খাত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে জেলায় জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। সদর উপজেলা, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ ও গাবতলী উপজেলায় বাণিজ্যিক উৎপাদন বেশি। জেলায় নিবন্ধিত সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে সাতটি। এ ছাড়া ছোট-বড় প্রায় ১৫০ জন উদ্যোক্তা এ কাজে যুক্ত।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, গত অর্থবছরে জেলায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৭ টন জৈব সার উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত হয়েছে ১৪ হাজার ৮৯ টন। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন করেছে ২৪ হাজার ১৩০ টন। বাকি ২ লাখ ৭ হাজার ৩৮৮ টন উৎপাদিত হয়েছে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।



