দেওয়ানগঞ্জ
কাজ শেষের আগেই ধস, মেরামতে জোড়াতালি

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ-তারাটিয়া-সানন্দবাড়ি সড়কের হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের কাঁঠাল বিল এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত প্যালাসাইডিং ও সিসি ব্লক ফাটল ধরে ধসে পড়েছে। প্রায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামো কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন ধসে পড়া অংশে পুনরায় মেরামতের কাজ চলছে। তবে সেই কাজেও জোড়াতালি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, দায়সারা মেরামতের কারণে আবারও ধসে পড়তে পারে অবকাঠামো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সিসি ব্লকে ফাটল ধরে। একপর্যায়ে ব্লকগুলো ধসে পড়লে ভেঙে যায় প্যালাসাইডিংয়ের অংশও। এ ছাড়া সড়কের পাশের নদী থেকে মাটি তুলে তা দিয়েই প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মাটি সরে গিয়ে ব্লক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধসে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যথাযথ সংস্কারের পরিবর্তে জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ-তারাটিয়া বাজার-সানন্দবাড়ি সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। সড়কের কাঁঠাল বিল এলাকায় ৪৫৫ মিটার প্যালাসাইডিং নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩২ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৫ টাকা। এ ছাড়া ২ হাজার ৫২৫ বর্গমিটার সিসি ব্লক নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৬ টাকা। দুটি কাজের মোট বরাদ্দ ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৩১ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই প্যালাসাইডিং ও সিসি ব্লকে ফাটল ধরে এবং বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে। পরে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, কাঁঠাল বিল এলাকায় ধসে পড়া প্যালাসাইডিং ও সিসি ব্লক মেরামতের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্লক তুলে নতুন করে বসানো হচ্ছে। প্যালাসাইডিংয়ের মাঝখানের ভেঙে যাওয়া অংশে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। সেখানে ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভাঙা অংশ ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্যালাসাইডিং নির্মাণের পরপরই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেগুলো ধসে পড়ে। এখন আবার মেরামতের কাজ শুরু হলেও স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু রায়হান বলেন, ‘নদী থেকে মাটি তুলে আবার সেখানেই ডাম্পিং করা হয়েছে। এ কারণে মাটি সরে গিয়ে ব্লক ধসে পড়েছে। বর্তমানে মেরামতের কাজ চললেও দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলেই ব্লক ধসে যেতে পারে। আর প্যালাসাইডিংয়ের ভাঙা অংশে কোনো ধরনের মেরামত না করে সেখানে বালুর বস্তা ফেলে জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, ‘এ কাজে পুরোপুরি দুর্নীতি হয়েছে। এখান থেকে মাটি তুলে এখানেই দেওয়া হয়েছে। কাজে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে কম। দেয়ালটি (প্যালাসাইডিং) ১০ ইঞ্চির জায়গায় পাঁচ ইঞ্চি করা হয়েছে। দুর্নীতি করার কারণেই ব্লক ধসে পড়ছে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক শ্যামল চন্দ্র সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন ধরলেও বক্তব্য জানতে চাইলে পরে ফোন করে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী থেকে মাটি উত্তোলন করেছিল। ধসে যাওয়া অংশে পুনরায় সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষের দিকে।’
জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার পরও এক বছরের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এর দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। ধসে যাওয়া অংশে পুনরায় সংস্কারকাজ চলছে।’




