ময়মনসিংহ
ছেলেকে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর-আগুন

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর-আগুন
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ডাকাতি শেষে কিশোর ছেলেকে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পাঁচ আসামির বাড়িতে ভাঙচুরের পর সন্ধ্যায় শরীফ ও আরিফের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এতে দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় শত শত মানুষ আসামিদের বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করেন। তবে স্থানীয় কয়েকজন আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেন। একই সঙ্গে ঘরের মালামালও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেন তারা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর চলে। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে স্থানীয় লোকজন রবিবার ও সোমবার সন্ধ্যায় দুই দফা আলোচনা করেন। এর পরদিনই আসামিদের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ (৪০) বললেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক, লজ্জাজনক, লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতি শেষে দুর্বৃত্তরা প্রবাসীর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও বেঁধে রাখে। পরে তার সামনেই তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিন রাত ৩টার দিকে পুলিশ রাজিব (২৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলায় চর কালীবাড়ি এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩) ও আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩) এবং নূরুলের ছেলে এনামুলকে (২২) আসামি করা হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।




